হাওড়া শাখায় বাতিল একাধিক দূরপাল্লা সহ লোকাল ট্রেন

লাইন মেরামতি ও সংস্কারের কাজ, সঙ্গে দোসর হয়েছে কুয়াশা। যার জেরে হাওড়া শাখায় বাতিল একাধিক দূরপাল্লা সহ লোকাল টেন। যাত্রী ভোগান্তির আশঙ্কায় নিত্যযাত্রীরা। সেইসঙ্গে যারা দূরপাল্লার ট্রেনে টিকিট কেটেছেন তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। রেল বিবৃতিতে জানিয়েছে, শীতের সকাল ঘন কুয়াশা থাকছে। ফলে ট্রেন চলাচলে খুব স্বাভাবিকভাবে সমস্যা দেখা দেয়। যাত্রী সুরক্ষাই প্রধান অগ্রাধিকার। যার কারণে বাতিল  গয়া–কামাক্ষা সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস (১৫৬১৯), নিউ দিল্লি–মালদা টাউন এক্সপ্রেস (১৪০০৪), মালদা টাউন–নিউ দিল্লি (১৪০০৩)। হাওড়া–দেরাদুন কুম্ভ এক্সপ্রেস (১২৩২৭ ), দেরাদুন–হাওড়া উপাসনা এক্সপ্রেস (১২৩২৮), ঝাঁসি–কলকাতা প্রথম স্বতন্ত্র সংগ্রাম এক্সপ্রেস (২২১৯৮), কলকাতা–ঝাঁসি প্রথম স্বতন্ত্র সংগ্রাম এক্সপ্রেস (২২১৯৭), কামাক্ষা–গয়া সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস (১৫৬২০)। আংশিকভাবে বন্ধ থাকবে মথুরা–হাওড়া চম্বল এক্সপ্রেস (১২১৭৮) ও হাওড়া চম্বল–মথুরা এক্সপ্রেস (১২১৭৭)। ৩ ডিসেম্বর থেকে কয়েকদিন এই ট্রেনগুলো চলবে না বলে জানিয়েছে রেল। অন্যদিকে লাইন মেরারমতি ও রেল সেতু সংস্কারের জন্য শনিবার থেকে হাওড়া শাখার তিনটি রুটে বেশ কয়েকটি লোকাল বাতিল থাকবে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কাটোয়া, তারকেশ্বর ও কৃষ্ণনগর–লালগোলা– এই তিনটি রুটের একাধিক ট্রেন বন্ধ থাকবে।

শীতে পথের কাঁটা ঘূর্ণিঝড়?

নভেম্বরের শেষটা বেশ ভালোই ছিল, বঙ্গবাসী মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো শীতের (Winter) আমেজ উপভোগ করছিল। গায়ে হুডি, শাল, সোয়েটার চাপিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিল প্রায় কম বেশি সকলেই। ভাবটা এমন যে,বাঁচা গেছে সেই কাঁদিয়ে দেওয়া গরম টা গেছে এবার বেশ ভালোই শীত উপভোগ করা যাবে। কিন্তু পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত ঘূর্ণিঝড় ফেনজল (Cyclone Fenjol)। ফলে থমকে শীত।  যদিও তার দূরত্ব বঙ্গ উপকুল থেকে এতটাই দূরে ছিল যে পরোক্ষ প্রভাব পড়ার কথা থাকলেও সেভাবে পড়েনি। মাঝ খান থেকে শীতের আমেজটা উবে গেছে। বেশ কিছুটা বেড়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলছে চলতি সপ্তাহের পুরোটাই দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। আগামী চার-পাঁচ দিন দু-এক ডিগ্রি তাপমাত্রায় হেরফের হতে পারে তবে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই । তবে আশার বাণী এটাই যে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পারদ পতন একটু বেশি হতে পারে। ফলে থমকে যাওয়া শীতের স্পেল নতুন উদ্যোমে ব্যাটিং শুরু করবে। আকাশ রৌদ্রজ্জ্বল থাকবে। এই ঠান্ডার হাওয়ার পেছনে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বঙ্গের বাতাসে ঢুকে পড়া প্রচুর জলীয় বাষ্প এসেছে। ফলে আপাতত শুষ্ক আবহাওয়ায় শীত প্রবেশের শুরু বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে শীত পড়ার সেভাবে সম্ভাবনা নেই। তবে কুয়াশা দেখা দেবে পাহাড় ও সমতলে। কয়েক জেলায় মাঝারি কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে ।

হলং বনবাংলোর নয়া নকশা জমা পড়ল নবান্নে

কয়েক মাস আগেই অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে যায় আলিপুরদুয়ারের ঐতিহ্যবাহী হলং বনবাংলো। বন দফতরের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় দ্রুত সেই  বনবাংলো তৈরি করে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বন দফতরের পক্ষ থেকে আলিপুরদুয়ারের হলং বনবাংলো নতুন নকশা জমা করা হল নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে। বন দফতর সূত্রে জানানও হয়েছে, হলং বনবাংলো নতুন চারটি নকশা জমা করা হয়েছে নবান্নে। তার মধ্যে যেই নকশায় অনুমোদন দেবেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই নকশা অনুযায়ী গড়া হবে নতুন হলং বনবাংলো। উল্লেখ্য, বাম জামানায় তৈরি করা হয়েছিল আলিপুরদুয়ারের ঐতিহ্যবাহী হলং বনবাংলো। বনের অন্দরে নির্মিত যে কোনও সরকারি অফিস বা বাংলোর নির্মাণের দায়িত্বে থাকত পর্যটন দফতরের হাতে। কিন্তু হলং বনবাংলো যখন পুড়ে ছাই হয়ে যায় তখন প্রথমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথম দায়িত্ব নেওয়া হয় নতুন ভাবে হলং বনবাংলো নির্মানের কাজের। তারপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানও হয় বনের কোর এলাকায় যে কোনও নির্মাণের দায়িত্ব থাকবে বন দফতরের হাতেই। আর তারপরই নতুন বনবাংলো তৈরির নকশা বন দফতরের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে।

বন্দে ভারতের থেকেও দ্রুতগতিতে ছুটবে ট্রেন

অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে সেজে উঠছে ভারতীয় রেল। পুরনো আমলের ধ্যান ধারণা ছেড়ে অত্যাধুনিক সাজে এসেছিল বন্দে ভারত। হাই স্পিড ট্রেনে এই বন্দে ভারত। এবার ট্রেনের আরও গতি বাড়ানো হবে বলে লোকসভায় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রী রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্দে ভারতের গতি হতে পারে সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এবার তার থেকেও দ্রুতগতিতে ছুটবে ট্রেন। ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে শুরু হয়েছে সেই ট্রেন সেট তৈরির কাজ। ২৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ছুটবে সেই ট্রেন। অর্থাৎ বন্দে ভারতের প্রায় দ্বিগুণ বেগে ট্রেন ছুটবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে বন্দে ভারত তৈরি করে সাফল্য পেয়েছে রেল। এবার আরও উচ্চগতির ট্রেন তৈরি হচ্ছে বলে লোকসভায় এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন  বিজেপি সাংসদ সুধীর গুপ্তা ও অনন্ত নায়ক। তার জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রতিটি গাড়ি তৈরির খরচ পড়ছে ২৮ কোটি টাকা। উচ্চগতির ট্রেনে অনেক জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে এয়ারটাইট কার বডি, অ্যারোডাইনামিকের বিষয় রয়েছে। ট্রেনের ওজন, গরম হয়ে যাচ্ছে কিনা, হাওয়া চলাচল, বাতানুকূল যন্ত্র ঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কিনা তা দেখতে হয়। লোকসভায় রেলের উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ বিবৃতি দিয়ে মন্ত্রী এদিন -আমেদাবাদ হাই স্পিড রেল নিয়েও আপডেট জানিয়েছেন। কেন্দ্রের এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা করছে জাপান। দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগোচ্ছে। এই প্রজেক্টের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। মোট ১২টি স্টেশনে থামবে এই ট্রেন।

ওয়াকফ বিল বিষয়ক জেপিসির মেয়াদ বাড়ল

বিরোধীদের দাবি মেনে ওয়াকফ বিল বিষয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) মেয়াদ বাড়ল। আগামী ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই কমিটির মেয়াদ ছিল। বৃহস্পতিবার লোকসভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওয়াকফ বিল বিষয়ক যৌথ সংসদীয় কমিটির কাজের ধরন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দলের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, অযথা তাড়াহুড়ো করা হয়েছে কমিটিতে। যথেষ্ট বলার সুযোগ পায়নি বিরোধীরা। এসব কারণে জেপিসি-র মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন বিরোধীরা। সংশোধিত ওয়াকফ বিল নিয়ে গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটির মেয়াদ আগামী বাজেট অধিবেশন পর্যন্ত বাড়াতে রাজি হয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। লোকসভায় এই সময়সীমা বাড়ানো সংক্রান্ত প্রস্তাব আনে শাসক শিবির। ওয়াকফ আইনে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে গত অধিবেশনে সংশোধিত ওয়াকফ বিল এনেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। জেপিসি-র চেয়ারম্যান জগদম্বিকা পালের অগণতান্ত্রিক আচরণ নিয়ে সরব হন বিরোধী সদস্যরা। এই পরিস্থিতিতে ওয়াকফ সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির মেয়াদ আগামী বছর বাজেট অধিবেশনের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হল। জগদম্বিকা অবশ্য বলেছেন, কাজ বাকি আছে, তাই কমিটির কার্যকালের মেয়াদ বাড়ল।

এবার চালকবিহীন হেলিকপ্টার ড্রোন

সেনাবাহিনীতে মাইলফলক। সেনায় যোগ হল চালকবিহীন হেলিকপ্টার ড্রোন। যা ২০ কেজি পর্যন্ত পে লোড বহন করতে পারবে। অত্যাধুনিক এই কপ্টারটির নাম সবল ২০। একটি ইলেকট্রিক মনুষ্যবিহীন হেলিকপ্টার। পরিবর্তনশীল পিচ প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে, বিশেষ করে এরিয়াল লজিস্টিকসের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ২০ কেজি পর্যন্ত পে লোড বহন করতে পারে,যা তার নিজের ওজনের সঙ্গে সমান। এটি রুক্ষ ও উচ্চ ভূখণ্ডে কাজ করতে সক্ষম। চিনুক হেলিকপ্টারের উত্তরাধিকারের উপর ভিত্তি করে তৈরি, সাবাল ২০-এ বড় রটারগুলির উচ্চ দক্ষতা এবং টেন্ডেম রটার কনফিগারেশনের ব্যতিক্রমী লোড বহন করার ক্ষমতা রয়েছে। এন্ডুরএয়ারের পরিচালক এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর লজিস্টিক সক্ষমতা আধুনিকীকরণের অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পেরে আমরা সম্মানিত৷ EndureAir একাধিক সেক্টরের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করেছে এবং বাস্তব-বিশ্বের সমস্যার কাস্টমাইজযোগ্য ড্রোন সমাধান প্রদান করছে। EndureAir-এর ড্রোনগুলি বর্তমানে নজরদারি, ভিড় পর্যবেক্ষণ, ISR অ্যাপ্লিকেশন, লজিস্টিক, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, পরিবর্তন সনাক্তকরণ এবং পেলোড সহ  বহু অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

কে হবেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী?

মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়েছে তিন দিন হয়ে গেল। কিন্তু কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। একদিকে আছেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবিশ (Devendra Fadnavis), অন্যদিকে শিবসেনার একনাথ শিন্দে (Eknatha Shinde)। বিজেপি (BJP) এককভাবে ১৩২টি আসন জিতেছে, এক নম্বরে তারাই, তাই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি পেতে তারাই ফেভারিট হওয়ার কথা। কিন্তু বাদ সাধছে শিন্দের শিবসেনা (Shiv Sena)। শিন্দে আবারও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে চান এবং এ ব্যাপারে তিনি নাকি এনসিপির (NCP) অজিত পওয়ারের (Ajit Pawar) সমর্থন আদায় করেছেন। শোনা যাচ্ছে, শিন্দে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে দাবি করেছেন, নির্বাচনে এনডিএ জোটের বিপুল জয় এসেছে তাঁর জন্যই। নির্বাচনী প্রচারের মুখ তিনি হওয়ার কারণেই এই সাড়াজাগানো সাফল্য। এও জল্পনা, মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হতে পারেন শিন্দে। সঙ্গে থাকবেন অজিত পওয়ারও। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, শিন্দেকে মুখ্যমন্ত্রী না করা হলে মহারাষ্ট্রে এনডিএ জোট ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত কী হবে তা কয়েকদিনের মধ্যেই পরিষ্কার হবে। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল ১৩২টি আসন। শিন্দের শিবসেনা এবং অজিত পওয়ারের এনসিপি জেতে যথাক্রমে ৫৭ এবং ৪১টি আসন। সবমিলিয়ে মহাযুতি জোটের দখলে আসে ২৩০টি আসন। অন্যদিকে বিরোধী জোট মহাবিকাশ আগাড়ির শরিক উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা জিতেছে ২০টি আসন, কংগ্রেস ১৬টি, শরদ পওয়ারের এনসিপি ১০টি এবং সমাজবাদী পার্টি ২টি আসন।

তৃণমূলের কর্মসমিতির বৈঠকে কী হল?

তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে সোমবার দলীয় শৃঙ্খলার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হল। চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৈরি হল তিন স্তরের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। একটি লোকসভা এবং রাজ্যসভা ভিত্তিক। দ্বিতীয়টি বিধানসভাভিত্তিক এবং তৃতীয় কমিটি দলভিত্তিক। সেই তিন স্তরীয় কমিটির সদস্যদের নামও এদিন ঘোষণা করা হয়। কমিটির নামের তালিকা দেখে বোঝা যাচ্ছে, প্রবীণদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নবীনদেরও রাখা হয়েছে কমিটিতে। রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, এদিনের বৈঠকে দলের সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে কথা হবে। এমনকী কিছু ক্ষেত্রে রদবদলও হতে পারে। কিন্তু সেই রদবদল নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানান মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলের বক্তব্য জানানোর জন্য নেতাদের নাম জানানো হয় এদিন। কারা জাতীয় স্তরে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলবেন, কারা রাজ্য স্তরের নানা বিষয়ে কথা বলবেন, বিধানসভা নিয়ে কারা কথা বলবেন, তাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মিডিয়া সমন্বয়কারী করা হয়েছে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেলে বা সংবাদমাধ্যমে দলের তরফে কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, সেই নামের তালিকা দল পরে জানাবে বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানান মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূলের অন্দরের খবর, রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়কে দল শো কজ করতে চলেছে। আর জি কর-কাণ্ডে তাঁর মুখ খোলাকে দল ভালোভাবে নেয়নি। এদিন বৈঠকে অভিষেক বলেন, সুখেন্দুকে আরও আগে শো কজ করা উচিত ছিল। নেত্রীও অভিষেকের কথায় সায় দেন। তারপরই ঠিক হয়, শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাঁকে শো কজ করবে। চন্দ্রিমা জানান, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে দল তাঁকে শো কজ করবে। পরপর তিনবার শো কজের জবাব না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাসপেন্ড করা হবে। তিনি সাংসদ হন, বিধায়ক হন কিংবা দলের পদাধিকারী হন। প্রসঙ্গত, এদিন জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে ডাক পাননি প্রবীণ নেতা সুথেন্দু শেখর রায়। তাঁকে যে ডাকা হয়নি, তা সাংবাদিক বৈঠকে স্বীকার করে নেন চন্দ্রিমা। আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই সুখেন্দুর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়। বৈঠকে ছিলেন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। নেত্রী তাঁর কানে কানে কিছু কথা বলেন। আরজি কর থেকে শুরু করে সম্প্রতি আইনশৃহ্খলার প্রশ্নে দলের অনেক নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ বেফাঁস মন্তব্য করে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন। দল এবার তাই শৃঙ্খলার প্রশ্নে কড়া অবস্থান নিতে চায়। সেই কারণেই তিন স্তরীয় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে দলের একটিই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি ছিল। আর ১৭ মাস পরেই বিধানসভা ভোট। তাকে মাথায় রেখেই দলকে শৃঙ্খলার নিগড়ে বাঁধতে চলেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে মমতা বলেন, এই মুহূর্তে দলের শৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লিতে জাতীয় স্তরে গুরুত্ব আরও বাড়ছে অভিষেকের। জাতীয় বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলবেন মিডিয়ার সঙ্গে। জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ২৭ করা হয়েছে। কর্মসমিতিতে এলেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই সাংসদ মালা রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া এবং জাভেদ খান। চন্দ্রিমা এদিন দলের বেশকিছু কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন।

জামিন পেলেন অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেন পার্থ-ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়। ৫ লক্ষ টাকার বন্ডে তাঁকে জামিন দিল ইডির বিশেষ আদালত। জামিন পেলেও মানতে হবে একাধিক শর্ত। আদালতের নির্দেশ, অর্পিতাকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে।  যেতে পারবেন না কলকাতার বাইরে। ২০২২ সালের ২২ জুনে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়। গ্রেফতারির ৮৫৭ দিন পর জামিনে ছাড়া পেলেন তিনি। যদিও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন মামলা এখনও ঝুলে রয়েছে। উল্লেখে্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালে পার্থ ও অর্পিতার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। উল্লেখ্য ২০২২ সালের ২৩ জুলাই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অর্পিতা। অর্পিতার টালিগঞ্জ এবং বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে হানা দিয়েছিল ইডি। অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় প্রচুর বিদেশি মুদ্রা এবং সোনার গয়নাও। শুধু তাই নয় বেলঘরিয়ার ‘ক্লাব টাউন হাইট্‌স আবাসনে অর্পিতার নামে থাকা দু’টি ফ্ল্যাট থেকে মোট ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা নগদে উদ্ধার করে ইডি। সঙ্গে প্রচুর গয়না। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ-অর্পিতাকে গ্রেফতার করে ইডি। গ্রেফতারির পর প্রায় আড়াই বছর কেটে গিয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ইডির পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সিবিআই। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থেকে অর্পিতার মুক্তি পেলেও ঝুলে রয়েছে পার্থর জামিন মামলা।

প্রথম দিনে কাদের দলে নিল কেকেআর?

স্পোর্টস ডেস্ক: সৌদি আরবে চলছে আইপিএল-এর মেগা নিলাম। ইতিমধ্যে নিলামের টেবিল থেকে সর্বকালের দামি ক্রিকেটারের তকমা পেয়েছেন ঋষভ পন্থ। তাঁকে ২৭ কোটি টাকায় দলে নিয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস। যদিও কয়েকদিন আগে শোনা গিয়েছিল যে, ঋষভকে দলে নিতে পারে কেকেআর (KKR)। কিন্তু ঋষভ বা লোকেশ রাহুল কাউকেই নিতে পারেনি নাইট শিবির। এদিকে প্রাক্তন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ও মিচেল স্টার্ককেও ফেরাতে পারেনি তাঁরা। তবে মেগা নিলাম থেকে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে বিশাল দামে কিনে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাঁকে ২৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় কিনেছে নাইটরা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন ভেঙ্কটেশকে এত দাম দিয়ে ফেরাল শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি? ক্রিকেটমহল মনে করছে, আসন্ন মরশুমে তাঁকেই হয়ত ক্যাপ্টেন করতে পারে নাইট শিবির। আসলে এবার কেকেআর ৬ জন খেলোয়াড়কে রিটেন করে দলে রেখে দিয়েছে। আন্দ্রে রাসেল, সুনিল নারাইন, রিঙ্কু সিং, হর্ষিত রানা, রমনদীপ সিং ও বরুণ চক্রবর্তীরা এবার রিটেন হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কাউকেই অধিনায়কত্ব দেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করছেন অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। এদিকে শ্রেয়স আইয়ারও আর দলে নেই। সেই কারণে নতুন করে অধিনায়ক খুঁজতে হতো নাইট শিবিরকে। অনেকেই মনে করছেন, ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে আসন্ন মরশুমে অধিনায়ক করতে পারে কেকেআর। কারণ, তাঁর জন্য যেভাবে দর হাঁকিয়েছে দল, সেটা থেকেও এমন একটা ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে পাওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, গত মরশুমে ভেঙ্কটেশের পারফরম্যান্সে বেজায় খুশি নাইট শিবির। সেই কারণে এবার তাঁর হাতে দলের ব্যাটন তুলে দেওয়ার কথা ভাবতেই পারে শাহরুখ খানের মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি। প্রথম দিনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের টিমে কাদের নিল? ভেঙ্কটেশ আইয়ার, কুইনটন ডি’কক, রহমতুল্লা গুরবাজ, এনরিক নর্ৎজে, অঙ্কৃশ রঘুবংশী, বৈভব অরোরা