জাঁকিয়ে শীত কবে?

আরও আরেকটা বছর। নতুন বছর ২০২৫ (New Year 2025) কে স্বাগত জানাল গোটা বিশ্ব (World) । ফের একটি নতুন ইনিংস লিখবে এই বছর। ২০২৪ সালে বছরের শেষের দিনগুলিতে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় উষ্ণ ২৫ শে ডিসেম্বর কাটিয়েছে মানুষ। শেষ দিকটাও প্রায় ছিল একই রকম। তবে ৩১ শে ডিসেম্বর (December) রাত থেকে আবহাওয়া (Weather) তার রূপ পরিবর্তন করতে শুরু করে। আজ ১ জানুয়ারি সকাল থেকেই বেশ ঠান্ডার (Cold Wave) অনুভূতি কলকাতা সহ তার পাশ্ববর্তী জেলাগুলিতে (District)। আবহাওয়া দফতর (Weather Office) জানিয়েছে, আজ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমতে পারে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। আজ বুধবার নতুন বছরের প্রথম দিন আকাশ ভোরের দিকে কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলেও বেলা বাড়লে পরিষ্কার হয়ে যাবে । এক ধাক্কায় পারদ পতন শহরে। কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪.২ ডিগ্রি । দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২.৬ ডিগ্রি। চলতি সপ্তাহে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের চ প্রায় সব জেলাতেই ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নামতে পারে। তবে জানিয়ে রাখি প্রবল শীতের কোনও সম্ভাবনা এখনও নেই। সেই নিয়ে আশার খবর শোনাতে পারেনি হাওয়া অফিস। অর্থাৎ শীতপ্রেমীদের মন খারাপের কিছু নেই। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে আজ থেকে তাপমাত্রা নামবে একটু একটু করে। গোটা রাজ্যের পাশাপাশি শহর কলকাতাতেও শীতের আমেজ রয়েছে। আগামী কয়েকদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। শুক্রবার পর্যন্ত কলকাতায় দিনে এবং রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। এদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের কিছু কিছু জেলায় তাপমাত্রা এক লাফে ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত নামতে পারে। মূলত পশ্চিমের জেলাগুলিতে এক ধাক্কায় নেমে যেতে পারে পারদ। আজ থেকে বেশ কয়েকদিন বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই দক্ষিণবঙ্গের কোনো জেলাতেই। তবে পিছু ছাড়বে না কুয়াশা। হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার দাপট থাকবে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া জেলায়। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও কম-বেশি কুয়াশা থাকবে। অন্যদিকে জমিয়ে শীতের আমেজ উপভোগ করবে উত্তরবঙ্গের মানুষ। উত্তরবঙ্গে কুয়াশার দাপট বেশি থাকবে। ঘন কুয়াশার সতর্কতা থাকবে দার্জিলিং জলপাইগুড়ি কোচবিহার উত্তর দিনাজপুর জেলাতে। দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের নিচে থাকবে বেশিরভাগ এলাকায় কোথাও কোথাও ৫০ মিটারে নেমে আসতে পারে। আজ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই দার্জিলিং, কালিম্পঙ, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদাতেও। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদায় থাকবে কুয়াশার দাপট।

কল্পতরু উৎসবে দক্ষিণেশ্বর-কাশীপুর-বেলুড় মঠে ভক্তের ঢল

আজ কল্পতরু উৎসব (Kalpataru Utsav 2025), ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দক্ষিণেশ্বরে, নয়া সাজে মা ভবতারিণী। বছরের প্রথম দিনে দক্ষিণেশ্বরের (Dakshineswar) পাশাপাশি বেলুড়মঠেও (Belur Math) প্রচুর মানুষের সমাগম। কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে ভক্তের ঢল পূর্ণভূমি কামারপুকুরে। ভোর থেকেই মঙ্গল আরতির মাধ্যমে পুজোপাঠ শুরু হয়েছে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে। আজকের দিনে দক্ষিণেশ্বরে কল্পতুরু হয়েছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস আর সেই ১ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বেলুড় মঠেও প্রচুর মানুষের ঢল। প্রতিবছর বেলুড় মঠের পক্ষ থেকে ভক্তদের উদ্দেশ্যে প্রসাদের আয়োজন করা হয়। সারাদিন নানাবিধি অনুষ্ঠানে নতুন বছর উপলক্ষে বেলুড় মঠ সেজে ওঠে। বছরের প্রথম দিনে বেলুড় মঠ, কাশীপুর উদ্যানবাটী ও দক্ষিণেশ্বরের পাশাপাশি শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মভূমি কামারপুকুরে ভক্তের ভিড় চোখে পড়ার মতো। কামারপুকুরে ভোর রাত থেকেই বিশেষ পুজো পাঠ ও মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পুজোপাঠ। শ্রীরামকৃষ্ণের আদি খড়ের ছাউনি মাটির বাড়িটিকেও সাজিয়ে তোলা হয়েছে। চলছে পুজোপাঠ। কামারপুকুরে ঠাকুরের ভক্তরা কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে গোটা কামারপুকুর নাম সংকীর্তন সহযোগে প্রদক্ষিণ করছে। ঠাকুরের কাছে বছরের প্রথম দিন মনবাসনা পূরণের দিন তাই ভক্তরা তাদের মনের বাসনা পূর্ণ করতে কামারপুকুরে ভিড় করেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণদেব ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন “তোদের চৈতন্য হোক”। ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রথম কল্পতরু উৎসবের দিনটি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও তাঁর অনুগামীদের জীবনে ছিল এক “অভূতপূর্ব তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।” ভক্তের বিশ্বাস, কল্পতরু উৎসবের দিনে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের কাছে মন থেকে কিছু চাইলে সে ইচ্ছা পূরণ হয়।’কল্পতরু’ কথার অর্থ হল ইন্দ্রলোকের সর্বকামনা পূরণকারী “দেবতরু” অর্থাত্‍ যিনি সহজেই অন্যের ইচ্ছাপূরণ করেন। এই দিন কল্পতরু রূপে ভক্তদের আর্শীর্বাদ করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব। পূরণ করেছিলেন ভক্তদের সমস্ত মনস্কামনা। আর সেই থেকে ইংরেজি বছরের প্রথম দিনটি ‘কল্পতরু উত্‍সব’ নামে পরিচিত। কামারপুকুরে ঠাকুরের জন্মস্থান ও কাশীপুরে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব জীবনের শেষদিনগুলি অতিবাহিত করেছিলেন। তাই কাশীপুর উদ্যানবাটীতে ও কামারপুকুরে এই উৎসব মহাসমারোহে পালিত হয়। দিনভর চলে হোম-যজ্ঞ ও পুজোপাঠ।

জানুয়ারিতে ফের দুয়ারে সরকার

নতুন বছরের প্রথম মাসেই দুয়ারে সরকার ক্যাম্প (Duyare Sarkar Camp) হতে চলেছে। সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) একটি সরকারি অনুষ্ঠানে সোমবার এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গম এলাকায় যাঁরা জাতি শংসাপত্র পাননি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাননি তাঁদের জন্য জানুয়ারির শেষ থেকে ফের দুয়ারে সরকার ক্যাম্প হবে। তা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। এই দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে আবেদন করেন বাসিন্দারা। এর ফলে এক জায়গায় আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা। ওই শিবির চলাকালীনই নথিভুক্ত হতে পারেন এলাকাবাসী। বিভিন্ন সরকারি স্কলারশিপ ছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থসাথী কার্ড, বার্ধক্যভাতার মতো সুবিধা পাওয়ার আবেদন এখানে করা যায়। এছাড়া এখন পঞ্চায়েতে মিউটেশন বা জমির রেকর্ডও করা যায় এই দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে। ক্যাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন দেখে বোঝা যায় এই উদ্যোগে কতটা ভরসা পেয়েছেন গ্রাম বাংলার মানুষ। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের এক ডিসেম্বর দুয়ারে সরকার ক্যাম্প চালু হয়। সরকারি অফিসে গিয়ে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকার দিন শেষ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যাতে ঘরের দুয়ারে সরকারে এসে গিয়েছে বোঝানো হয়েছিল। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভা এলাকায় এই দুয়ারে সরকার শিবির করা হয়। যেখানে এক ছাতার তলায় সব সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্য আবেদন করা যায়। এই ক্যাম্প শুরু থেকেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকে অপেক্ষা করে থাকেন পরের বার দুয়ারে সরকার ক্যাম্প কখন হবে। যদি নতুন কোনও জনকল্যাণ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায়।

মান পরীক্ষায় ফেল করল ১১১ টি ওষুধ

মান পরীক্ষায় ঢাহা ফেল ১১১ টি ওষুধ (drug samples), নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিও (CDSCO) বাজারে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে। প্রতি মাসেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare ) অধীনে কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা একটি ওষুধের গুণমান অনুযায়ী তালিকা তৈরি করে। সেই তালিকা অনুযায়ী নিম্ন মানের ও জাল ওষুধের লিস্ট আলাদা উল্লেখ করা হয়। নিম্নমানের ওষুধের তালিকায় রয়েছে আলসার, ডায়াবেটিস ও অ্যালার্জির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ৷ গ্যাসের ওষুধ হিসেবে অ্য়াসপিরিন খান অনেকেই ৷ চিকিৎসকের পরামর্শে অ্য়ালার্জির জন্য ‘প্রোমেথাজাইন ইনজেক্সন’ নিয়ে থাকেন বহু রোগী ৷ আলসারের চিকিৎসার জন্য সুক্রালপেট ইউএসপি ওষুধ খেতে হয় অনেককে। কিন্ত এই ওষুধগুলি গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “ওষুধে বিশেষ কিছু উপাদানের প্যারামিটারের উপর ভিত্তি করে গুণগত মানের পরীক্ষা করা হয় ৷ বিভিন্ন ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে একাধিক গবেষণাগারে সেগুলির গুণমান যাচাই করা হয় ৷ সরকারি পরীক্ষায় ব্যর্থ নির্দিষ্ট ব্যাচের ওষুধকে নিম্নমানের তালিকাভুক্ত করা হয় ৷ যদিও সংস্থার বাকি ওষুধের পণ্যগুলির গুণমানের ক্ষেত্রে সেই নিশ্চয়তা থাকছে না ৷ ফলে, নজর এড়িয়ে সেই সমস্ত ওষুধগুলি বাজারে চলে আসছে ৷” ১১১টি ওষুধের মধ্যে, ৪১ টি কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ৭০টি ওষুধ রাজ্যের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) নভেম্বর মাসে মোট ১১১টি ওষুধের নমুনা ‘মান মানের নয়’ (NSQ) (‘not of standard quality’) হিসাবে পেয়েছে। CDSCO-এর মতে, NSQ তালিকা প্রদর্শনের উদ্দেশ্য হল স্টেকহোল্ডারদের বাজারে চিহ্নিত NSQ ব্যাচগুলি সম্পর্কে সচেতন করা। গত নভেম্বরে এই পরীক্ষা করা হয়। প্যারাসিটামোল, প্যান ডি-এর মতো নিত্যব্যবহৃত ৪১টি ওষুধকে নিম্নমানের বলে ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ‘সেন্ট্রল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন’ (CDSCO) ৷ পাশাপাশি ৭০টি ওষুধকে নিম্নমানের বলে ঘোষণা করে রাজ্যের ওষুধ পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি ৷ তালিকায় ডায়াবেটিসের জন্য ব্যবহৃত ওজোমেট পিজি-2, আলসারের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত সুক্রালপেট ইউএসপি, গ্যাসের সমস্যার জন্য ব্যবহৃত অ্য়াসপিরিন-সহ একাধিক ওষুধের নাম আছে। এই ওষুধগুলির কারখানার আছে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল ও গুজরাতে।

বর্ষবরণের রাতে কড়া নিরাপত্তা শহরে

বড়দিনের (Christmas 2024) পর বর্ষবরণের রাতেও (New Year 2023) কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকছে খাস কলকাতা। শনিবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার (Kolkata Police Commissioner) মনোজ কুমার ভার্মা (Manoj Kumar Verma) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, অন্য বছরের মতো এবছরও বর্ষবরণের রাতে পার্ক স্ট্রিটে বিশেষ পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হবে। শহরজুড়ে থাকবে ৪৫০০ পুলিশ। মা ফ্লাইওভারে রাত দুটো নাগাদ দু’চাকা চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা উঠেছে। তবে স্পিড মেনে চালাতে হবে। সেদিনের ভিড়ের আগাম আভাস পেয়েই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বড়দিনের দিন কোনও সমস্যা হয়নি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও কোনও অভিযোগ আসেনি। ফলে বর্ষবরণের রাতেও একই পন্থা অবলম্বন করা হবে। কলকাতা পার্ক স্ট্রিট, অ্যালেন পার্ক, বউবাজার এলাকার পানশালাগুলির মধ্যে চলছে কড়া নজরদাড়ি। বাংলাদেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মারকুইজ স্ট্রিটে চলছে কড়া নজরদারি। বিশেষত হোটেলগুলিতে বাড়তি নজর লালবাজারের। শহরের থানা ও ট্রাফিক পুলিশকে নাকা তল্লাশির নির্দেশ। এবার পার্কস্ট্রিটে বাড়ানো হয়েছে সিসিটিভি সংখ্যাও। ওয়াচ টাওয়ারের উপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বর্ষবরণের রাতে কলকাতা পুলিশর পক্ষ থেকে মোতায়েন করা রয়েছে স্পেশাল ফোর্স। বর্ষবরণের রাতে কলকাতায় কারা আনাগোনা করছে তদারকি করবেন পুলিশের উচ্চপদস্ত অফিসাররা। পার্ক স্ট্রিটকে বেশ কতগুলি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে একজন করে ডিসি। ডিসির নেতৃত্বে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ থাকবে। কলকাতা পুলিশের উইনার্স টিম বর্ষবরণের রাতে মিলেনিয়াম পার্ক, ভিক্টরিয়া ও ময়দানে টহল দেবে বলেও জানা গেছে।

বর্ষবরণে জাঁকিয়ে শীত?

ডিসেম্বরের (December) শেষ মুহূর্তে এসে শীত উধাও। বড়দিনে কনকনে শীতের দেখা নেই। গত দশ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এদিন। উষ্ণতম বড়দিনের সাক্ষী থেকেছে শহরবাসী। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, শনি ও রবিবার বৃষ্টির রাজ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস। তবে বর্ষশেষ ও বর্ষবরণের সময় ফিরবে শীতের আমেজ। অপরদিকে দার্জিলিং-এ রয়েছে তুষারপাতের সম্ভবনা। শীত ব্যাকফুটে। একের পর এক নিম্নচাপ ও পশ্চিমীঝঞ্ঝার জেরে রাজ্যে উধাও শীত। ফের বছর শেষে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভবনা। পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে হালকা বৃষ্টির সম্ভবনা। এছাড়াও শনিবার হালকা বৃষ্টি হতে পারে হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে। এদিন কলকাতাতেও হালকা বৃষ্টির সম্ভবনা। রবিবার ফের বাড়বে তাপমাত্রা। সোম ও মঙ্গলবার নিম্নমুখী হবে পারদ। বর্ষবরণের রাতে ফিরবে শীতের আমেজ। কদিন রাজ্যজুড়ে থাকবে কুয়াশার দাপট ও আংশিক মেঘলা আকাশ। শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার দুপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক ধাক্কায় তিন ডিগ্রি পড়ল পারদ।

উইকেন্ডে ফের বৃষ্টি?

বছর শেষের আগে আবার হাওয়া বদল। আপাতত দুই দিন স্বাভাবিকের উপরে থাকবে তাপমাত্রা। সপ্তাহান্তে ফের সামান্য বাড়তে পারে। তবে রবিবারের পর নামবে পারদ। শীতবিলাসীদের জন্য একেবারেই সুখবর নয়, তাপমাত্রা কমলেও জাঁকিয়ে শীতের পরিস্থিতি এ বছরে নেই। তবে বর্ষশেষ ও বর্ষবরণে ফিরবে শীতের আমেজ। কলকাতার (Kolkata) আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯.২ ডিগ্রি। বুধবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪.৬ ডিগ্রি। ২০২৪ সালের শেষ সপ্তাহান্তে রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। শনিবার হালকা বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal) তিন জেলাতে। প্রভাব পড়তে পারে আশেপাশের দুই একটি জেলাতেও। হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলাতে। এদিকে উত্তরবঙ্গে (North Bengal) উইকেন্ডে তুষারপাতের সম্ভাবনা। এই সময় যাঁরা দার্জিলিং থাকবেন, সেই সমস্ত পর্যটকদের জন্য নিশ্চয়ই তা সুখবর। শনিবার দার্জিলিংয়ের উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা। শনিবার বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে। এদিকে শৈত্যপ্রবাহের কবলে উত্তর ভারত (North India)। দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) এলাকায় ঘন কুয়াশার দাপট অব্যাহত। কুয়াশার কারণে সতর্কতা জারি করেছে দিল্লি বিমানবন্দর। তবে বিমান চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে উৎসবের সময়ে দুর্ভোগ সহ্য করতে হবে না যাত্রীদের। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার সময় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দৃশ্যমানতা ছিল ৫০০ মিটার। এই দৃশ্যমানতায় সিএটি-৩ ক্যাটেগরির বিমানের অবতরণ করতে অসুবিধা হয় না।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রয়াত

ওয়েব ডেস্ক: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, দেশের অর্থনৈতিক উদারীকরণের পুরোধাপুরুষ মনমোহন সিংহ (Manmohan Singh) প্রয়াত। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। এদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে। বৃহস্পতিবার রাত আটটা নাগাদ দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস(AIIMS)-এ এমারজেন্সি ডিপার্টমেন্টে ভর্তি করা হয় ৯২ বছরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে। দিল্লি এমসের তরফে জানানো হয়েছে, বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বাড়িতেই হঠাৎ সংজ্ঞা হারান তিনি। রাত ৮টা ৬ মিনিটে তাঁকে দিল্লি এমসের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক দলের সবরকম চেষ্টার পরেও তাঁকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। রাত ৯টা ৫১ মিনিটে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে দিল্লি এমস। উল্লেখ্য, ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মনমোহন সিং। চলতি বছরের শুরুতে রাজ্যসভার সাংসদ পদের মেয়াদ শেষে রাজনৈতিক পথচলায় ইতি টানেন তিনি। টানা ৩৩ বছর রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। ভারতের একমাত্র শিখ প্রধানমন্ত্রী হলেন মনমোহন সিং। অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৮৫ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরও ছিলেন। তারপর ১৯৯১ সালের জুনে পিভি নরসিং রাওয়ের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর চারমাস পর রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন।

তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা

চারদিন ধরে একটানা চলবে দুর্যোগ। তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। পশ্চিম হিমালয়ে তুষারপাতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে বৃষ্টি। শীতের সঙ্গে এবার তাল মিলিয়ে পাল্লা দেবে চলবে বৃষ্টি। সোমবার ও মঙ্গলবার দেশের দু’দিন ব্যাপী দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচলপ্রদেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে কাশ্মীরে জাঁকিয়ে শীত। আগামী ৪ দিন ধরে আবহাওয়ার একটানা খামখেয়ালিপনা চলবে। চলটি বছরের দ্বিতীয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও তৈরি হয়েছে। ফলে একদিকে বাড়বে শীত। তাল মিলিয়ে বাড়বে বৃষ্টির দাপট। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পদুচেরিতে ২৮ ডিসে্ম্বর পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভবনা। ফলে অনেকটাই কমবে তাপমাত্রায়। দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় তৈরি হয়েছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। ফলে রাজ্যগুলিতে হবে ভারী বৃষ্টি। বৃষ্টির দরুন শীতের আমেজ অনেকটাই কমবে। বাড়বে তাপমাত্রা।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে আটকে রয়েছে শীত?

শীতের প্রভাব ফের কমবে বাংলায় (Weather Forecast), এমনটাই জানিয়ে দিল হাওয়া অফিস। আলিপুর (Alipore Weather Update) থেকে জানানো হয়েছে, একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর-পশ্চিমের ঠান্ডা হাওয়া বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কিছুটা উপরে রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩-৪ দিন রাজ্যের তাপমাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ, আগামী ৭২ ঘন্টায় কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। মঙ্গলবার ভোরে কলকাতার আকাশ কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। দিনের বেলাতেও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। বুধবার মেঘলা আকাশের পাশাপাশি সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দু-এক পশলা হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড়দিনে উত্তুরে হাওয়ার অভাবে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে শীতের অনুভূতি তুলনামূলক কম থাকবে। তবে শুক্রবার থেকে তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করতে পারে। তবে বর্ষবরণের আগে পারদের বড় পতনের সম্ভাবনা কম। এদিকে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায় বড়দিনে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঘন কুয়াশার দাপট থাকবে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা জেলায়। অন্যান্য জেলায় শুষ্ক আবহাওয়া বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। তবে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কেটে গেলে রাজ্যে শীতের প্রভাব আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।