আরজি কর মামলার রায়দান ১৮ জানুয়ারি

আরজি করের খুন ও ধর্ষণের মামলার (RG Kar Rape and Murder Case) শুনানি শেষ। বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়ে দিল রায়দানের দিন। আগামী ১৮ জানুয়ারি আরজি কর মামলার রায় ঘোষণা হবে জানিয়ে দিল শিয়ালদহ আদালত। ১১ নভেম্বর আরজি কর কাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। টানা ২ মাস ধরে চলে এই মামলার শুনানি। আগেই এই মামলার চার্জশিট দিয়েছিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এই মামলা সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় একমাত্র অভিযুক্ত। আদালতে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সিবিআই জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তে যে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ মিলেছে, তাতে এক জনই অভিযুক্ত। এক জনের পক্ষেও যে ওই ঘটনা সম্ভব, তা বলা হয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রিপোর্টেও। সিবিআইয়ের দাবির বিরোধিতা করে আদালতে ধৃতের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, গোটা ঘটনাটি সাজানো। তাঁর মক্কেল এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তই নন। তাঁর মক্কেলকে ফাঁসানো হয়েছে। সিবিআইয়ের দেওয়া তথ্যপ্রমাণও পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেন সঞ্জয়ের আইনজীবী। আদালতে জানায়, নির্যাতিতার শরীরের কোনও আঘাতের চিহ্ণ মেলেনি। সিবিআই যা বলছে, তা সঠিক নয়। অন্যদিকে সিবিআই তদন্তে অষোন্ত প্রকাশ করে নির্যাতিতার পরিবার আদালতে জানিয়েছে, এক জনের পক্ষে এই ঘটনা সম্ভব নয়। নতুন করে তদন্ত হোক, চান নির্যাতিতার বাবা-মা। সব পক্ষের বক্তব্য শুনেছে আদালত। শিয়ালদহ আদালতে রুদ্ধদ্বার কক্ষে এই বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে।
কতটা বিপজ্জনক HMPV?

সম্প্রতি আতঙ্ক ছড়িয়েছে এইচএমপিভি (HMPV)। করোনার মতোই এরও উৎপত্তিস্থল চীন। সে দেশে বহু মানুষ ফ্লু-এর মতো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকী ভারতে, এবং খাস কলকাতায় (Kolkata) এইচএমপিভি কেসের কথা শোনা গিয়েছে। ভয়াবহ অতিমারির (Pandemic) সময় পেরিয়ে এসেছি আমরা। আবার কি তেমন কিছু ঘটতে চলেছে? এইচএমপিভি ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক, কতটা সাবধান হওয়া উচিত আমাদের? কী বলছেন বিশেষজ্ঞেরা? এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই পরিস্থিতি আর পাঁচ বছর আগে কোভিড-১৯ (Covid-19) এর প্রাথমিক পর্যায় এক নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। এইচএমপিভি আসলে কী? প্রথমত, এ হল সাধারণ ফ্লু-এর মতোই। এর পুরো কথা হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস। এই জীবাণু শ্বাসনালীর উপরদিকে সামান্য সংক্রমণ করে। স্পর্শের মাধ্যমে একজন থেকে আর একজনে ছড়ায় এটি। সাধারণ উপসর্গ হল কাশি, জ্বর, নাক বন্ধ থাকা। ঠান্ডা লাগা এবং ফ্লুয়ের মতোই। তবে শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের উপসর্গ মারাত্মক হতে পারে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ভ্যাক্সিন ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক জন ট্রেগোনিং জানিয়েছেন, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় থাকা, কাশির সময় হাত দিয়ে মুখ ঢাকা, হাত ধোয়া, এই সবই সুরক্ষা দেবে। যাঁরা সংক্রামিত হয়েছেন তাঁদের বিশ্রাম এবং তরল খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ট্রেগোনিং। কোভিডের সঙ্গে এইচএমপিভি-র পার্থক্য কী? কোভিড-১৯ অতিমারির সৃষ্টি করা করোনাভাইরাস যখন মানবদেহে পাওয়া গেল তার সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা কিছু জানতেন না। মানবদেহ এই জীবাণুকে প্রতিরোধ করতে পারেনি ফলে মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে এইচএমপিভি কয়েক দশক ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং পৃথিবী জুড়ে মানুষ এর জন্য সুরক্ষার উপায় ঝুঁজে নিয়েছে। ট্রেগোনিং জানান, শীতকালে যে সমস্ত জীবাণুর ককটেল আমাদের আক্রমণ করে তাদেরই একটা হল এই এইচএমপিভি।
কেমন থাকবে আবহাওয়া?

শুরু হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা। আর তারই প্রেক্ষিতে বঙ্গে আবার কামব্যাক করল শীত। বুধবার থেকেই শীতের আমেজ অনুভব করছেন দক্ষিণবঙ্গবাসী। কলকাতা – সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম। গতকালই আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক’দিন তাপমাত্রা রাতের দিকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে শীত যেমন উধাও হয়ে গিয়েছিল ঠিক তেমনভাবেই জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে শীতের কামব্যাকে খুশি দক্ষিণবঙ্গবাসী। আপাতত কদিন দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শীতের আমেজ বজায় থাকবে বলেই জানা যাচ্ছে। হুগলি, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব – পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব – পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজায় থাকবে শুষ্ক আবহাওয়া। আপাতত রাজ্যের কোন প্রান্তে নেই বৃষ্টির সম্ভাবনা। ১৪ই জানুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি হবে না বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
ছন্দে ফিরছে শীত?

ছন্দে ফিরছে শীত (Winter in Kolkata) । ফের পারদ পতনের সম্ভবনা বাংলায় বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। রাতের বেলা তাপমাত্রা কমবে ৪ ডিগ্রি। গত সপ্তাহে কনকনে শীতের দাপট ছিল কলকাতা সহ বেশ কয়েকটি জেলায় (Kolkata Weather Update)। গত দু’দিনে পারদ ওঠানামা হয়েছে বিস্তর। এবার ফের তাপমাত্ৰা কমার পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দু’দিনে তাপমাত্রা কমার সম্ভবনা ২-৪ ডিগ্রি। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও কমবে তাপমাত্রা (North Bengal Weather Update) । ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে (South Bengal Weather Update) । দুই বাংলায় আপাতত বৃষ্টির সম্ভবনা নেই। মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫. ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ০. ৮ ডিগ্রি বেশি। এদিন শহরের তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রির আশেপাশে। শহরের বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বাধিক ৯০ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৯০ শতাংশ।
ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫

২০২৫-এর শুরুতেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে (Earthquake) বিপর্যস্ত নেপাল (Nepal) ও তিব্বতের (Tibet) একাংশ। মঙ্গলবার সকালে ৭.১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় দক্ষিণ এশিয়ার (South Asia Earthquake) বিস্তীর্ণ এলাকায়। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে শহর কলকাতাতেও (Kolkata) সাতসকালে কেঁপে ওঠে মাটি। তবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাবে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিব্বতের লাৎসে শহর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায়। ইতিমধ্যে সেখানে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ জনের বেশি। সূত্রের খবর, ৭.১ মাত্রার কম্পনের পর আর ৪৯টি আফটার-শক (After Shock) হয়েছে সেখানে। প্রথম কম্পনের পরে সকাল ৭টা ২ মিনিটে ৪.৭ তীব্রতার দ্বিতীয় কম্পন, ৭টা ৭ মিনিটে ৪.৯ তীব্রতার তৃতীয় কম্পন, এবং এর ছয় মিনিট পর ৫.০ তীব্রতার আরেকটি কম্পন হয়। প্রথম দু’টি ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং তৃতীয়টি ৩০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। ভূমিকম্পের প্রভাব নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু, বিহার, উত্তরবঙ্গ, সিকিম, এবং অসম পর্যন্ত টের পাওয়া গেছে। দিল্লি এবং ভুটানেও কম্পনের খবর মিলেছে। তিব্বতের শিগাতসে শহরে ৬.৮ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের সংবাদমাধ্যম। তীব্র কম্পনের জেরে নেপালের বিভিন্ন শহরে ইতিমধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কাঠমান্ডুতে আতঙ্কিত মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে সেখানে কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

চিনে দেখা মিলেছে এক নয়া ভাইরাসের। করোনার পর এইচএমপিভি ভাইরাস (HMPV Virus) নিয়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। আর এবার সেই ভাইরাস হানা দিল ভারতেও। ভারতে এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত মোট চারজন। কলকাতাতেও হানা দিয়েছে এই ভাইরাস। জানা যাচ্ছে, কলকাতায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত এক শিশু। আর এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হল বিশেষ পদক্ষেপ। জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী শুক্রবার থেকে শুরু গঙ্গাসাগর মেলা। আর তার আগেই গঙ্গাসাগরে আজ উপস্থিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এইচএমপিভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। তিনি বলেন, ‘HMPV নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর দরকার নেই। কোনও গাইডলাইন এলে রাজ্য সরকার তা মানবে।’ যার দ্বারা তিনি স্পষ্টত বুঝিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রস্তুত এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্তকতা অবলম্বন করে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এইচএমপিভি ভাইরাস নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। এইচএমপিভি ভাইরাস যাতে না ছড়িয়ে পড়ে এবং তার দ্রুত আটকানো যাতে সম্ভব হয় তার জন্য এখন থেকেই দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে যে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগা রোগীদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি, কোন ব্যক্তির মধ্যে যদি এই সংক্রান্ত কোনও সিম্পটম নজরে আসে তাহলে তাকে তৎক্ষণাত আইসোলেশনে পাঠাতে হবে বলে জানানো হয়েছে দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে। দিল্লির হাসপাতালগুলিকে স্পষ্টত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা অথবা এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সেই ব্যক্তিদের নিয়মিত রিপোর্ট দিতে হবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে। হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শ্বাসকষ্টের সমস্যার জন্য যেই ওষুধ লাগে তা যেন হাসপাতালগুলিতে মজুত রাখতে হবে। যদিও ভারতের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এখনই এইচএমপিভি ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মত কিছু নেই। কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেরল সরকারও বাচ্চা, বয়স্ক এবং অন্তঃসত্ত্বা ব্যক্তিদের জন্য পরামর্শ দিয়েছে তারা যেন বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করে। আর এবার দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা হলো নির্দেশিকা। শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যৌথ পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠীর এক বৈঠকে এইচএমপিভি ভাইরাস নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার ডিরেক্টরেট জেনারেল, হু – র প্রতিনিধি, দিল্লি এইমস, বিপর্যয় মোকাবিলা সেল এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিকেল রিসার্চ ( ICMR) – এর বিশেষজ্ঞরা। আর সেই বৈঠক থেকে জানানো হয় ভারতে এখনও সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পায়নি। আর তা যেন বৃদ্ধি না পেতে পারে সেই জন্যই জারি করা হলো নির্দেশিকা।
HMPV বেশি সংক্রমিত হয় শীতকালে?

করোনা অতিমারীর (Corona Pandemic) ভয়াবহতা আমরা কেউই এখনও ভুলতে পারিনি। সেই মৃত্যুমিছিল, সেই হাহাকার, সেই লকডাউন (Lockdown)- দুর্বিষহ দিনগুলির কথা ভাবলেই যেন গা শিউরে ওঠে। সেই কারণে এবার চীনের (China) নতুন ভাইরাস নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। তবে ভাইরাসের সংক্রমণকে নিয়ে কিছুটা স্বস্তি দিল চীন। ‘হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস’ বা HMPV-কে (Human Metapneumo Virus) শুধুমাত্র শীতকালীন সংক্রমণ বলে দাবি করেছে। অর্থাৎ, শীত পেরিয়ে গেলে আশঙ্কার মেঘ কেটে যেতে পারে। নতুন এই ভাইরাসের কারণে চীনের হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ভিড় দেখা গেলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে জিংপিং সরকার। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, নতুন ভাইরাসের প্রভাবে শীতকালে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে এই ভাইরাসকে মারাত্মক বলে মনে করার কোনও কারণ নেই বলে মনে করছে চীন। তিনি বলেন, “HMPV নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার বিষয়টির উপর কড়া নজর রাখছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চীনের হাসপাতালগুলির ভিড়ের কিছু ছবি ভাইরাল হয়। সেইসব ছবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ভাইরাসের সংক্রমণের হার কোভিডের (COVID-19) তুলনায় কম। পাশাপাশি, এই ভাইরাস প্রাণঘাতী নয় বলেও জানানো হয়েছে। চীনের এই ভাইরাসের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ভারতেও (India) উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের স্বাস্থ্য দফতর থেকেও আতঙ্কিত না-হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক ড. অতুল গয়াল জানিয়েছেন, “এইচএমপিভি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ সতর্কতা মেনে চলুন।”
জাঁকিয়ে শীত কতদিন?

গোটা বাংলা কনকনে ঠান্ডায় জর্জরিত (Winter in West Bengal)। কলকাতায়ও শীতের আমেজ চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবারের মতো শনিবার সকালেও হাড়হিম ঠান্ডায় শহরবাসী কাঁপছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আপাতত তাপমাত্রার খুব একটা পরিবর্তন হবে না। তবে এই প্রবল শীত কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে বিশেষ আপডেট দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এদিকে, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে তারা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকবে। তবে তার পরের ২ দিনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ২-৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গেও একই প্রবণতা দেখা যাবে। শীতের প্রকোপ আপাতত খুব একটা না কমলেও কয়েকদিন পর আবহাওয়া খানিকটা উষ্ণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কেমন থাকবে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া? উত্তরবঙ্গের শীতল আবহাওয়ার মাঝে ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। ৭ জানুয়ারি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারের কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বৃষ্টি সাময়িক হওয়ায় তাপমাত্রার খুব একটা হেরফের হবে না। ফলে শীতের প্রকোপ বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেমন থাকবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া? হাওয়া অফিসের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। শীতের আমেজ থাকলেও আবহাওয়া পরিষ্কার থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কলকাতার আবহাওয়ার পূর্বাভাস কলকাতার তাপমাত্রা বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কম। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ৩.৩ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ১৪ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বাধিক ৯৪ শতাংশ এবং ন্যূনতম ৬৩ শতাংশ। ফলে শহরবাসীর কাছে শীতের তীব্রতা আরও অনুভূত হচ্ছে।
কেমন থাকবে আবহাওয়া?

পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে, সারম্বরে স্বাগত জানানও হয়েছে নতুন বছরকে। ক্রিসমাস যেমন বঙ্গবাসী কাটিয়েছে শীত ছাড়া, কিন্তু বছর শেষে অবশেষে দেখা মিলেছে শীতের। ইতিমধ্যেই কলকাতা-সহ বঙ্গের সব জায়গায় এক ধাক্কায় নেমেছে অনেকটাই তাপমাত্রা। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বঙ্গে এই কদিন দেখা মিলবে শীতের। জানা যাচ্ছে শীতের স্পেল চলবে শনিবার পর্যন্ত। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গেও জাঁকিয়ে শীতের আমেজ। সকাল থেকেই দেখা গেছে কলকাতা-সহ রাজ্য ঢেকেছিল কুয়াশার চাদরে। আপাতত এই কদিন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকবে বলেই জানা যাচ্ছে। আজ কলকাতার সর্বচ্চ তাপমাত্রা ২১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলাতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা নীচে বলে জানা যাচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, শনিবার থেকে আবার তাপমাত্রা বাড়বে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গেও স্বাভাবিকের অনেকটাই নীচে তাপমাত্রা। তবে উত্তরবঙ্গে আবার রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে। তবে পশ্চিমবঙ্গে নেই কোন বৃষ্টির পূর্বাভাস।
নীতীশের জন্য ইন্ডিয়া জোটের দরজা খোলা, মন্তব্য লালুর

লালুপ্রসাদ যাদব (লালু) (Laluprasad Yadav) ভারতীয় রাজনীতিতে এক বর্ণময় চরিত্র। জেল যাপন, কিডনি প্রতিস্থাপন, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে সেভাবে ফ্রন্টফুটে দেখা যায় না। তাঁর ছেলে তেজস্বী যাদবই আরজেডি (RJD) দল পরিচালনা করেন। লালুর একেকটা কথায় হাসির রোল উঠত। রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করত। সে সংসদে রেলের বাজেট পেশের সময়ই হোক বা বিহারে হেমা মালিনীর গালের মতো মসৃণ রাস্তা করে দেওয়ার কথা বলাই হোক। বৃহস্পতিবার লালু আকস্মিকই বললেন, নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) জন্য ইন্ডিয়া জোটের দরজা খোলা। ব্যাস। পাটনার আকাশে আলোড়ন। এটা কি তবে তাঁর স্বভাবসিদ্ধ রসিকতা? এগিয়ে আসছে বিহার বিধানসভা ভোট। তার আগে এই লালু-বার্তার গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকতে পারেও বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। বিহারের রাজনীতিতে চির প্রতিদ্বন্দ্বী নীতীশ, লালু। জয়প্রকাশ নারায়ণের একদা দুই শিষ্য পরে আলাদা শিবিরে বিভক্ত হয়ে যান। নিজেরাই হয়ে ওঠেন ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিষ্ঠান। তবে তার পরেও জোট করে হিন্দি বলয়ের পূর্বের এই রাজ্যে সরকার গড়েছে লালু-নীতীশ। ২০১৫ সালে ও ২০২২ সালে বিজেপি ছেড়ে লালুর সঙ্গে জোট গড়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন নীতীশ। যেভাবে বারবার জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ দল বদলে কুর্সি আঁকড়ে থেকেছেন, তাতে তিনি যে কোনও দিন যা কিছু করতে পারেন সেটা স্বাভাবিক বলে মনে করেন রাজনীতর পর্যবেক্ষকরা। কিন্তু, এমনটা হলে শুধু বিহারের রাজনীতিতে তা সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকার টিকে রয়েছে নীতীশ কুমার ও চন্দ্রবাবু নায়ডুর উপর ভর করে। নীতীশ এনডিএ ছেড়ে লালু বা ইন্ডিয়া জোটের হাত ধরলে টলমল করবে মোদির গদি। গত ২০ বছরে মোট চারবার জোট বদলে মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ। এবার ফের বিধানসভা ভোটের আগে কি জোট বদলাবেন? তবে লালুর এই প্রস্তাবের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে নীতীশ খানিকটা বিরক্তির সুরেই সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা কি বলতে চাইছেন? উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদির এনডিএর বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোট গড়ার অন্যতম কারগির ছিলেন নীতীশ কুমার। এই জোটের প্রথম বৈঠকও পাটনায় হয়েছিল। যদিও পরে তিনি রং বদলে এনডিএতে ফিরে যান।




