পান মশলার বিজ্ঞাপনে ‘না’ অনিল কাপুরের

ওয়েব ডেস্ক: বলিউডের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অনিল কাপুরের নাম প্রথম সারিতেই রয়েছে। সম্প্রতি জানা গিয়েছে ৬৭ বছর বয়সী অনিল কাপুর একটি পান মশলার বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের লোভনীয় অফার প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংবাদসূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পান মশলা ব্র্যান্ডের এনডোর্সমেন্টের জন্য ১০ কোটি টাকার অফার দেওয়া হয়েছিল অনিল কাপুরকে। কিন্তু এই প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। খুবই মোটা টাকার অফার নিয়ে হাজির হয়েছিল সেই পান মশলা ব্র্যান্ড। কিন্তু তারপরেও বিন্দুমাত্র না ভেবে তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বিশ্বাস করেন তাঁর অনুরাগী ও দর্শকদের কাছে তাঁর নিজের একটি দায়িত্ব আছে। যে সমস্ত পণ্য সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে, আর্থিক লাভের জন্য সেই কাজে তিনি যোগ দিতে চান না।

ঘূর্ণিঝড়ের জন্য কী কী ট্রেন বাতিল?

কলকাতা: ‘দানা’র প্রভাব পড়তে পারে এ রাজ্যেও। সে কারণে বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ বিভাগ। ডিআরএম দীপক নিগম জানিয়েছেন, ‘দানা’র প্রভাব পড়তে পারে এই আশঙ্কায় ১৬০টি লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাইই নয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই বেশ কিছু শাখায় বন্ধ থাকবে ট্রেন চলাচল। পাশাপাশি শিয়ালদা দক্ষিণ শাখায় ১৪ ঘণ্টা ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। একইভাবে শিয়ালদা-বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় ১৪ ঘণ্টা লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের দিকে শিয়ালদার ডিভিশনার রেলওয়ে ম্যানেজার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে (ফেসবুক এবং এক্স) জানানো হয়েছে যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শিয়ালদা ডিভিশনে ১৬০টির মতো লোকাল ট্রেন বাতিল থাকবে। সেগুলি সিংহভাগই শিয়ালদা দক্ষিণ শাখা থেকে ছাড়ে। সেইসঙ্গে যে সময় ঘূর্ণিঝড়ের উপকূল পার হওয়ার কথা আছে, সেইসময় শিয়ালদা দক্ষিণ এবং শিয়ালদা-বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই ১৪ ঘণ্টা বাদ দিয়ে আর কোনও বাতিল ট্রেন বাতিল থাকবে কিনা, সে বিষয়ে আপাতত কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া ২৩, ২৪ এবং ২৫ অক্টোবর একাধিক ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে। ২৩ তারিখ বাতিল করা হয়েছে মোট ১৮টি ট্রেন। ২৪ অক্টোবর বাতিল থাকছে ৩৭ টি ট্রেন। এবং ২৫ অক্টোবার বাতিল করা হয়েছে মোট ১১ টি ট্রেন।

ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’-র শেষ আপডেট জেনে নিন

কলকাতা: ‘দানা’ কখন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে? এটাই এখন সবার প্রশ্ন। এ বিষয়ে মৌসম ভবনের দেওয়া শেষ তথ্য অনুযায়ী, নিম্নচাপটি সাগরদ্বীপ থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। বুধবার দুপুরের মধ্যেই নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে ‘দানা’। কতদূরে কীভাবে জানা যাচ্ছে? নিম্নচাপের অবস্থান, গতিপ্রকৃতির উপর সর্বদা নজর রেখেছেন আবহবিদেরা। বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে উপগ্রহচিত্র। সেই সব ছবি থেকেই নিম্নচাপের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য নিয়ে আগাম সতর্ক করছে হাওয়া অফিস। হাওয়া অফিস সূত্রে আর কী জানা যাচ্ছ? হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ঘণ্টায় ৬ কিলোমিটার বেগে নিম্নচাপ এগিয়ে আসছে। ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ৬৭০ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নিম্নচাপটি। এখনও অবধি নিম্নচাপটির গতিপ্রকৃতি দেখে আবহবিদদের অনুমান, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর ‘দানা’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তার পর সেটি অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার সকালের মধ্যে ওড়িশার পুরী এবং পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যবর্তী কোনও অংশ দিয়ে স্থলভাগে ঢুকতে পারে। ‘ল্যান্ডফলের’ সময় এটির সর্বাধিক গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টা ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার।

এমার্জিং এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক: এমার্জিং এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল ভারত। সোমবার ওমানের আল আমিরাতে তারা সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জিতল ভারত। প্রথম ম্যাচে তারা হারিয়েছিল পাকিস্তানকে। সোমবারের ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৬.৫ ওভারে ১০৭ রানে অল আউট হয়ে যায় আমিরশাহি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার হিসেবে ২৪ বলে ৫৮ রান করেন অভিষেক শর্মা। পাঁচটি চার এবং চারটি ছয় মেরেছেন তিনি। অধিনায়ক তিলক বর্মা ১৮ বলে ২১ রান করেন। পরের দিকে আয়ুষ বাদোনি একটি চার এবং একটি ছয় মেরে জিতিয়ে দেন ভারতকে। ৫৫ বল বাকি থাকতে জেতে ভারত। বুধবার শেষ ম্যাচে ভারত নামবে ওমানের বিরুদ্ধে। সোমবার ম্যাচ জয়ের পর দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে সবার উপরে ভারত।

‘ডানা’ নামের অর্থ কী?

কলকাতা: মৌসম ভবন জানিয়েছে, আন্দামান সাগরে যে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, তা আগামী বুধবার পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এসে ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেবে। আর এই ঘূর্ণাবর্তের কারণে সোমবার ভোরে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। আবহবিদেরা জানিয়েছেন, নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর সেটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। আগামী বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে সেটি। আর এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘ডানা’। কিন্তু এই ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’, নাম দিল কে? নামের অর্থ কী? ‘ডানা’ নামটি কাতারের দেওয়া। আরবি ভাষায় এই শব্দের অর্থ ‘সুন্দর এবং মূল্যবান মুক্তো’। আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর, অর্থাৎ উত্তর ভারত মহাসাগরে তৈরি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য একটি তালিকা প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়ার্ল্ড মেটিয়োরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট। ২০২০ সালে মৌসম ভবনের তরফে ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা দেওয়া হয়। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তা হলে তালিকা অনুযায়ী সেই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘ডানা’। তবে এখনও আবহাওয়া দফতরের তরফে এই নাম ঘোষণা করা হয়নি। ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি তৈরি হলে তবেই ঘোষণা হবে নাম।

অভিষেকের চোখের অস্ত্রোপচার সফল

কলকাতা: ২০১৬ সালের ১৯ অক্টোবর মুর্শিদাবাদে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার সময় সিঙ্গুরের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের উপর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। তাঁর বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। সেই থেকে আমেরিকার জন্‌স হপকিন্‌স হাসপাতালে একাধিক বার তাঁর বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। সোমবার অভিষেক নিজের এক্স পোস্টে তাঁর রক্ত-জমাট চোখের ছবি পোস্ট করে জানিয়েছেন, এই নিয়ে অষ্টম বার অস্ত্রোপচার হল। তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, চলতি মাসে আমেরিকায় প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে অপারেশন হয়েছিল তাঁর চোখে। অভিষেক লিখেছেন, ‘‘আমার চোখের সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর সদয় শুভকামনার জন্য আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে আমি আমার দৃষ্টিশক্তি নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। এই নিয়ে অষ্টম অস্ত্রোপচার হল। এ বার ভাল ভাবেই হয়েছে সব কিছু। সে কথা জানাতে পেরে আমি খুশি। দ্রুত আরোগ্য এবং দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে কিছু পোস্ট-অপারেটিভ নির্দেশিকা এবং সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে। আমি আশাবাদী এবং আন্তরিক ভাবে আপনাদের সমস্ত ভালবাসা, উদ্বেগ এবং সদয় শুভকামনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’’

‘আমরণ অনশন’ তুলে নিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা

কলকাতা: গত ৫ অক্টোবর থেকে ধর্মতলায় ‘আমরণ অনশন’-এ বসেছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজেও চলছিল ‘ভুখ হরতাল’। ১০ দফা দাবি আদায়ে অনড় ছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত সোমবার ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে সেই অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন আন্দোলনকারীরা। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজেও প্রত্যাহার করা হল ‘আমরণ অনশন’। পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিলেন, নবান্ন-বৈঠকে প্রশাসনের ‘শরীরী ভাষা’ তাঁদের ভাল লাগেনি। আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা-মায়ের কথাতেই আন্দোলন তুলছেন তাঁরা। অনশন প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার রুমেলিকা কুমার বলেন, ‘‘কোনও সরকারি অনুরোধে নয়, কাকু-কাকিমা (নির্যাতিতার বাবা-মা) এবং সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই অনশন তুলে নিলাম আমরা।’’ ‘আমরণ অনশন’ প্রত্যাহারের পর পরবর্তী কর্মসূচির কথা সোমবার রাতেই ঘোষণা করেন আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার দেবাশিস হালদার। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই আন্দোলন করছি। সাধারণ মানুষের কথা আমরাই ভাবছি। আমরাই ভাবব। তাই এই অনশন প্রত্যাহার করলাম। আগামিদিনের কর্মসূচি হিসাবে ঘোষণা করছি, আগামী শনিবার মহাসমাবেশ ডাকছি। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে সেটা হবে।’’

শেষ দুটি টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করল ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক: ৩৬ বছর পর ভারতের মাটিতে কোনও টেস্ট ম্যাচ জিতল নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৬ রানের লিড টপকে ১০৬ রানের লিড নিউজিল্যান্ডকে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু অল্প রানে লড়াই করা সম্ভব ছিল না। যেটা হওয়ার সেটাই হল। ভারতকে ৮ উইকেটে হারাল কিউইয়া। ভারতের হয়ে দুটি উইকেটই নেন জসপ্রীত বুমরা। তবে প্রথম টেস্টে হারের পরই বাকি দুটি টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করল বিসিসিআই। আর শেষ দুটি টেস্টে দলে নেওয়া অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দরকে। প্রথম টেস্টে যে ১৫ জনের দল ছিল, সেই দলের সঙ্গে শুধু যোগ হয়েছেন ওয়াশিংটন। অর্থাৎ দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ১৬ জনের দল স্কোয়াড ভারতের। চোট পাওয়ার জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে কিপিং করেননি ঋষভ পন্থ। কিন্তু তাঁকে টিমে রাখা হয়েছে। যা দেখে ভারতীয় সমর্থকরা খুশি। এমনকী শুভমন গিলকেও দলে রাখা হয়েছে। এবার পুনে এবং মুম্বই টেস্টের জন্য ভারতীয় দল একনজরে দেখে নেওয়া যাক- রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), যশপ্রীত বুমরা (সহ-অধিনায়ক), যশস্বী জসওয়াল, শুভমন গিল, বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল, সরফরাজ খান, ঋষভ পন্থ (উইকেটরক্ষক), ধ্রুব জুরেল (উইকেটরক্ষক), রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাডেজা, অক্ষর পটেল, কুলদীপ যাদব, মহম্মদ সিরাজ, আকাশ দীপ এবং ওয়াশিংটন সুন্দর।

মুখ্যসচিবের ইমেলের জবাব দিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা, কী জানালো হল?

কলকাতা: শনিবার মুখ্যসচিবের ইমেলের পর, রবিবার জুনিয়ার ডাক্তাররা সেই ইমেলের রিপ্লাই করলেন। তবে ‘শর্ত’ মেনে অনশন তুলে নয়, বৈঠকে জুনিয়র ডাক্তাররা যাবেন অনশন যেমন চলছে সেই অবস্থাতেই। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরেই অনশন তুলে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্যান জিবি বৈঠকের পর আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার দেবাশিস হালদার বলেন, ‘‘১৪ দিন পর অনশনমঞ্চে আসেন মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব। ফোনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়। কিন্তু এই কথোপকথনে অনশনকারীরা দুঃখ পেয়েছেন। তাঁদের অনুভূতি আঘাত পেয়েছে। আমাদের দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আমাদের মনে হয়েছে এত দিন পরেও ১০ দফা দাবি নিয়ে উনি হয়তো জানেন না, বা তাঁকে জানানো হয়নি। তবে আমরা কী চাইছি তা বিস্তারিত ভাবে জানিয়েই মুখ্যসচিবকে ইমেল করেছি। প্রয়োজনে তা নিয়ে আমরা কাল আবার বলব।’’ তিনি আরও জানান, সময়মতো বৈঠকে যোগ না দেওয়া অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তাঁদের উপর এই দায় চাপানোর মানসিকতাকে ‘ধিক্কার’ জানাচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। তাঁরা বলেন, ‘‘বৈঠকের ১-২ ঘণ্টা আগে যদি আমাদের সময় এবং স্থান জানানো হয়, তবে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে সময় লাগবে। সব সময় দেরিতে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের উপর পুরোপুরি দায় চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।’’ তার পরই দেবাশিস বলেন, ‘‘আমরা চাই কোনও পূর্ব শর্ত ছাড়াই বৈঠকে যোগ দিতে। নির্দিষ্ট সময়েই আমাদের প্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দেবেন। আমরা আশা করছি সদার্থক আলোচনা হবে।’’ তবে যদি বৈঠকের পরেও আলোচনা থেকে কোনও সমাধানসূত্র না বার হয়, তবে মঙ্গলবার পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবেন বলেও জানান তাঁরা। এমনকি, আগামীতে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়বে বলেও ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা।

শর্তসাপেক্ষে সোমবার বৈঠকের আহ্বান

কলকাতা: মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ইমেলে জুনিয়র ডাক্তারদের জানিয়েছেন, অনশন প্রত্যাহার করে ২১ অক্টোবর নবান্নে বৈঠকে যোগ দিন। মুখ্যসচিবের এই ইমেলের জবাব শনিবারের মধ্যেই দেওয়া হবে বলে জানান জুনিয়র ডাক্তারেরা। শনিবার দুপুর ২টোয় ধর্মতলায় জুনিয়র ডাক্তারদের অনশনমঞ্চে আচমকাই হাজির হন মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। সেখানে অনশনরত জুনিয়র ডাক্তারদের পাশাপাশি অন্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘণ্টা খানেক আলোচনা করেন তাঁরা। সেই আলোচনার মাঝেই মুখ্যসচিবের ফোনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে অনশনকারীদের অনশন তুলে নেওয়ার আর্জি করেন তিনি। মমতা এ-ও জানান, আন্দোলনে বসতে প্রস্তুত। এমনকি, ফোনে বৈঠকের কথা জানিয়ে দেন মমতা। মুখ্যসচিবেরা ধর্নামঞ্চ ছাড়ার কিছু পরেই সাংবাদিক বৈঠক করেন আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারেরা। সেই বৈঠক থেকে তাঁরা স্পষ্ট জানান, সোমবারের বৈঠকে কী আলোচনা হয়, তার পরেই অনশন তোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।