ভাইফোঁটার আগে বৃষ্টি?

ওয়েব ডেস্ক: কালীপুজো শেষ। অথচ শীতের দেখা নেই। তাহলে কি আবার বৃষ্টি? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বঙ্গবাসীর মনে। তবে আবহাওয়া দফতর বৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুক্রবারেও রাজ্যের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়ায় হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কোথাও নেই। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় আজ বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। এমনিতে উত্তরবঙ্গের জেলায়-জেলায় মনোরম আবহাওয়া। তবে আজ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলা দার্জিলিঙের কোনও কোনও অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। আগামী রবিবার ভাইফোঁটা। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিনও রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

১৩ কোটির রিঙ্কু কী বললেন?

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্যাপড ক্রিকেটার হিসাবে রিঙ্কু সিংকে রিটেন করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ৫৫ লাখ থেকে একেবারে ১৩ কোটি টাকায় রিটেন করা হয়েছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় রিঙ্কু নিজের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। সেখানে তাঁকে কেকেআরের হেলমেট এবং জার্সিতে দেখা যাচ্ছে। যে ভিডিয়ো পোস্ট করে রিঙ্কু লিখেছেন, “হামারি প্রেম কাহানি তো অভি ব্যস শুরু হুই হে। পিকচার অভি বাকি হে মেরে দোস্তো।” অর্থাৎ, আমাদের প্রেম কাহিনি সবে শুরু হয়েছে, এখনও অনেক কিছু বাকি রয়েছে। কেকেআরের অন্যতম মালিক শাহরুখ খানের ‘ওম শান্তি ওম’ ছবিতে একটি সংলাপের সঙ্গে মিল রেখে এই লাইন লিখেছেন রিঙ্কু। প্রসঙ্গত, আইপিএলে ৪৬ ম্যাচে ৮৯৩ রান করেছেন রিঙ্কু। তাঁর গড় ৩০.৭৯। মূলত ফিনিশার হিসাবেই তাঁকে খেলায় কেকেআর। রিঙ্কুর স্ট্রাইক রেট ১৪৩.৩৩। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে শেষ ওভারে পাঁচটি ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন রিঙ্কু। যে ঘটনা তাঁর জীবন পাল্টে দেয়।

মান রক্ষার টেস্টে টিম ইন্ডিয়ার প্লেয়িং ইলেভেন দেখে নিন

স্পোর্টস ডেস্ক: মান রক্ষার টেস্টে দলে নেই জসপ্রীত বুমরা। এদিন অর্থাৎ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ভারত-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট। মুম্বইয়ে সেই ম্যাচের টসের সময় রোহিত শর্মা জানালেন যে, বুমরা অসুস্থ। সেই কারণে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু দিন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল যে, এই টেস্টে বুমরা খেলবেন না। অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা ভেবে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছিল। রোহিত যদিও বলেন, “বুমরা অসুস্থ। সেই কারণে সিরাজকে দলে নেওয়া হয়েছে।” ভারতের প্রথম একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), যশস্বী জসওয়াল, শুভমন গিল, বিরাট কোহলি, ঋষভ পন্থ (উইকেটরক্ষক), সরফরাজ় খান, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়াশিংটন সুন্দর, আকাশ দীপ এবং মহম্মদ সিরাজ। A look at #TeamIndia‘s Playing XI for the Third Test 👌👌👌 Live – https://t.co/KNIvTEyxU7#INDvNZ | @IDFCFIRSTBank pic.twitter.com/0Ggq6lRyMQ — BCCI (@BCCI) November 1, 2024

কালীপুজোয় প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের নাম

ওয়েব ডেস্ক: কালীপুজো ও তার প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের নাম। মন্দির বাজার ব্লকের অন্তর্গত দক্ষিণ বিষ্ণুপুর মহাশ্মশানের প্রাচীন মন্দির খুবই জাগ্রত মন্দির। এখনও এখানে ১০৮টি অপঘাতে মৃত নরমুন্ডু দিয়ে তন্ত্রমতে পূজিত হয় মা করুণাময়ী কালী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মন্দিরবাজার ব্লকের অন্তর্গত বিষ্ণুপুর মহা শ্মশানে আদিগঙ্গার পাড়ে অবস্থিত এই অতি প্রাচীন মন্দির। এই শ্মশানে আগে ভিড় জমাতেন তান্ত্রিক ও সাধকরা। শবসাধনায় বসতেন অনেকেই। আগে বছরে একবারই কালীপুজোর দিন পুজো হতো। কিন্তু তারপর এই মন্দিরের প্রথম সেবায়েত সাধক মনিলাল চক্রবর্তীকে মা স্বপ্নাদেস দেন শুধুমাত্র বছরে একটি দিনের পুজোতে মা সন্তুষ্ট নন। মাকে রোজই পুজো দিতে হবে। আর তাই আজ থেকে প্রায় ১০৯ বছর আগে বিষ্ণুপুর শ্মশানে আদি গঙ্গার পাড়ে এই মন্দিরে নিত্য পুজো হয়ে আসছে। এই পুজোর সূচনা করেছিলেন সাধক মনিলাল চক্রবর্তী। বর্তমানে তাঁরই উত্তরসুরী সাধক শ‍্যামল চক্রবর্তী এই মন্দিরের দায়িত্ব সামলান। কালীপুজোর রাতে ১০৮ টি নর মুন্ডু দিয়ে তন্ত্রমতে পুজো হয় এখানে। সন্ধ‍্যার পর শ্মশানে আগত প্রথম শবকে নিয়ে চলে শবসাধনা। এই মন্দিরে দেবীমুর্তির পিছনে সাজানো আছে ১০৮ টি নরমুন্ড। মন্দিরের বর্তমান সেবায়েত শ‍্যামল চক্রবর্তী জানান তান্ত্রিক মতে পুজো হয় এখানে। আগে ছিল টালির ঘর, ছিল গভীর জঙ্গল। বর্তমানে জঙ্গল কিছুটা কমেছে, ফলে এখন লোকসমাগম বেশি হচ্ছে। এই মন্দির খুবই জাগ্রত মন্দির। মন্দিরে বিরাজমান মা করুণাময়ী কালী। প্রতিবছর কালী পূজার রাতে এই শ্মশান মন্দিরে সারা রাত ধরে তন্ত্র মতে চলা কালীপুজো চাক্ষুষ করতে ভিড় জমায় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার দর্শণার্থীরা। সকাল থেকেই এই মন্দিরে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটতে শুরু করেছে। তাই কালীপুজোর দিন শেষ মুহূর্তে সেবাইত ও চক্রবর্তী পরিবারের ব্যস্ততা তুঙ্গে। ইতিমধ্যে মন্দিরের দালানে পড়েছে নতুন রং। ঝাড় পোছ করে সাজিয়ে ফেলা হয়েছে নরমুন্ডু গুলি। নতুন সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে মন্দিরে থাকা করুণাময়ী কালিকে।

কালীপুজোয় বানান ছানার পায়েস

ওয়েব ডেস্ক: পুজোর জন্য অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি ডেজার্ট হল চানা দিয়ে তৈরি পায়েস। পনির পুডিং বা পনির ক্ষীরও বলা চলে। কনডেন্সড মিল্ক, ফুল ক্রিম দুধ, এলাচ গুঁড়ো, চিনি দিয়ে তৈরি অত্যন্ত সুস্বাদু এই পায়েসের সঙ্গে ড্রাই ফ্রুটসের স্বাদ ভোলার নয়। উপকরণ: ১.৫ লিটার দুধ ২ চা চামচ ভিনিগার ৬ টেবিল চামচ কনডেন্সড মিল্ক অথবা গুঁড়ো দুধ ২ টেবিল চামচ পেস্তা (কুচি) ২ চামচ আমন্ড (কুচি) ১/২ কাপ জল ২টি এলাচ (থেঁতো) ১/২ টেবিল চামচ ঘি চিনি (স্বাদ মত) পদ্ধতি: প্রথমে একটি পাত্রে এক লিটার দুধ ফুটিয়ে হাপ কাপ জলে দুই চামচ ভিনিগার গুলে নিতে হবে। দুধ ফুটে উঠলে, ভিনিগার মেশানো জল ধীরে ধীরে দুধের মধ্যে ঢেলে ছানা কাটাতে হবে। তারপর ছাকনির উপর একটি কাপড় রেখে দুধ ছেঁকে নিয়ে ছানাটা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এরপর ছানা ভালো করে দু থেকে তিনবার জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে যাতে ভিনিগারের টক ভাব না থাকে। এবার একটি থালাতে হাতে করে ম্যাসড করে একটি প্যানে ঘি দিয়ে ছানা টিকে একটু নারাচারা করে নিতে হবে। এবার প্যান বা কড়াইয়ে হাপ লিটার দুধ দিয়ে, তাতে দু’টি এলাচ থেঁতো ও এক চিমটি কেশর এবং স্বাদ মতো চিনি দিয়ে ফোটাতে হবে। একটু ঘন হয়ে এলে ঘিয়ে ভাজা ছানা দুধের মধ্যে ঢেলে দিয়ে, মিল্ক দিয়ে দিতে হবে। বেশ ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিন। ছানার পায়েস উপরে কেশর ও আমন্ড ও পেস্তা কুচি সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

কালীপুজোয় ঘর সাজাতে পারেন এভাবে

ওয়েব ডেস্ক: কালীপুজো-দীপাবলি মানেই বাড়িতে অতিথিদের আনাগোনা। বন্ধু-বান্ধব থেকে আত্মীয়দের ঠিকমতো আপ্যায়ন করতে প্রয়োজন হয় অনেকখানি জায়গার। উৎসবের মরসুমে শেষ মুহূর্তে কম খরচে অন্দরমহলকে অন্য রকম ভাবে সাজিয়ে তুলতে রইল কিছু নজরকাড়া টিপস। ঘর রং: এখন বাজারে বা অনলাইনে রংবাহারি জিনিসপত্র রয়রছে। যা দিয়ে খুব সহজে আপনি নিজের ঘর নিজেই রং করে ফেলতে পারবেন। যে কোনও হাল্কা শেড যেমন প্যাস্টেল হলুদ বা গোলাপি রঙ করে নিতে পারেন ঘরে। এতে ঘর উজ্জ্বল, বড় ও খোলামেলা দেখাবে, পাল্টে যাবে তার আমেজও। লাইটস: উৎসব মানেই কিন্তু আলোর রোশনাই। কালীপুজ বলে কথা, লাইটস ছাড়া তো কোনও কথাই হবে না। এখন বাজার-হাটে অনলাইনে বিভিন্ন ধরণের লাইটস পাওয়া যায়। বেডরুমে বিভিন্ন ধরণের টুনি বা ল্যাম্পশেড রাখতেই পারেন। এছাড়াও ব্যালকনিতে নানা রকমের লাইটস দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস: অপ্রয়োজনীয় ঘর সাজানোর জিনিসপত্র, আসবাব ইত্যাদি ঘরে থাকলে অযথা জায়গার অপচয় হয়। পুজোর আগে বসার ঘরে জায়গা বাড়াতে সরিয়ে ফেলতে পারেন ভারী কাঠের আসবাব কিম্বা জমকালো কাজের একাধিক ঘর সাজানোর জিনিস। পরিবর্তে ব্যবহার করে দেখতে পারেন হাল্কা রঙের চাদর, কুশন কভার। টানা বড় দেওয়ালে টাঙাতে পারেন একটি মাত্র বড় পেন্টিং কিংবা হাতের করা কোনও ওয়াল হ্যাঙ্গিং।

আজ কালীপুজো, আবহাওয়া কীরকম থাকবে?

কলকাতা: দানা নিয়ে চিন্চার ভাঁজ ছিল বঙ্গবাসীর। এমনকী কালীপুজোয় কি দানা এফেক্ট থাকবে সেই নিয়েও আলোচনা হয়েছে বিস্তর। কিন্তু স্বস্তির খবর, বাংলায় সেভাবে কোনও আফটার এফেক্ট ফেলতে পারেনি ঘূর্ণিঝড় দানা। তাহলে কেমন থাকবে কালীপুজোর আবহাওয়া? হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, কালীপুজো ও দীপাবলির সময় হালকা হিমেল হাওয়া বইবার সম্ভবনা। বেশ মনোরম পরিবেশে কালীপুজো ও দীপাবলি উদযাপনের সম্ভবনা রয়েছে। জেলায় জেলায় আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির সম্ভবনা। ক্রমশ শুষ্ক হতে পারে আবহাওয়া। মরসুমের প্রথম শুষ্ক হিমেল পরশ থাকতে পারে। তবে শীত পড়তে পারে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ।

‘ভূতচতুর্দশী!’ পুরানের কথা জানেন?

‘ভূতচতুর্দশী!’ নাম শুনলে গা ছমছম ভাব হয়? কিন্তু আদপে উৎসব হিসেবে পালন করা হয় এই দিনটিকে। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে ভূতের সঙ্গে মানুষের এক অম্ল মধুর সম্পর্ক রয়েছে যুগ যুগ ধরে। ছোটবেলায় বাচ্চাদের ভূতের গল্পের বই উপহার দেওয়া থেকে, দাদু, ঠাকুমার কাছে ভূতের গল্প শোনার মধ্যে দিয়ে বড় হতে হতে ভূতের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরপর তার হাত ধরেই আমাদের জীবনে আসে ভূতচতুর্দশী। নানাবিধ উপাচার ও উৎসবের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় এই প্রচলিত প্রথা। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতি বছর আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষে পালিত হয় চতুর্দশী তিথি। কালীপুজোর সঙ্গে এই ভূতচতুর্দশীর সম্পর্ক রয়েছে। কালীপুজোর ঠিক এক রাত আগে পালিত হয় বাঙালির ভূতচতুর্দশী বা নরক চতুর্দশী। কখনও কখনও আবার একই দিনে পালিত হয় দুই উৎসব। এরপর সন্ধ্যাবেলা ১৪টি প্রদীপ জ্বালান অনেকে। প্রচলিত রীতি অনুসারে, বাঙালিরা এ দিন ঘরে ঘরে ১৪টি তিলের প্রদীপ আলাদা করে রাখেন। তারপর একসঙ্গে জ্বালান সেগুলি। তবে পুরাণে ভূত চতুর্দশী নিয়ে বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না। যা জানা যায় তা হল- দানবরাজ বলি যখন স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল দখল করে নিলেন, তখন নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়ে গেল। তার আক্রোশ থেকে পার পেলেন না দেবতারাও। বলির তাণ্ডব ঠেকাতে দেবগুরু বৃহস্পতি ভগবান বিষ্ণুকে একটি উপায় বাতলে দিলেন। বামনের ছদ্মবেশে তখন নেমে এলেন বিষ্ণু, তিন পা সমান জমি ভিক্ষা চাইলেন রাজা বলির কাছে। দানবরাজ কিন্তু শুরুতেই বুঝেছিলেন এই বামন আর কেউ নন, স্বয়ং বিষ্ণু। কিন্তু এরপরও না বোঝার ভান করে বামনের পাল্লায় পড়ে ঠিকই রাজি হলেন চুক্তিতে। দুই পা দিয়ে স্বর্গ ও মর্ত্য দখল করে ফেললেন বিষ্ণু। এরপর নাভি থেকে বের হয়ে এলো আরেক পা, যা রাখলেন বলি রাজার মাথার উপর। সঙ্গে সঙ্গেই পাতালে নেমে গেলেন দানবরাজ বলি। সেই থেকে পাতালই হল তার আবাস। বলিরাজ জেনে বুঝেও দান করেছিলেন বলে, ভগবান বিষ্ণু রাজা বলির নরকাসুর রূপের পুজোর প্রবর্তন করেন। নরকাসুররূপী রাজা বলি কালীপুজোর আগের দিন ভূত চতুর্দশীর তিথিতে অসংখ্য অনুচর-সহ ভূত, প্রেত নিয়ে মর্ত্যে নেমে আসেন পুজো নিতে। অনেক সময় বলা হয়ে থাকে, ভূত চতুর্দশীর দিন পরলোকগত চৌদ্দ পুরুষের আত্মারা নিজ নিজ বাড়িতে নেমে আসেন। তাই তাদের আসা যাওয়ার পথকে আলোকিত করতেই নাকি এই দিন সন্ধ্যাবেলা প্রদীপ জ্বলানোর রীতি। হিন্দু শাস্ত্রমতে বলা হয়, এই তিথিতে সন্ধ্যা নামার পর পরই অশরীরী প্রেতাত্মারা বের হয়ে আসেন। আর তাদের হাত থেকে নিস্তার পেতে সন্ধ্যায় পর গৃহস্থের বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম। হিন্দু শাস্ত্রমতে থাকলেও ভূত চতুর্দশী অবশ্য একান্তই বাঙালির উৎসব বলা চলে। আবার এমনও শোনা যায়, এই দিনে ‘চামুণ্ডা’ রূপে চৌদ্দ ভূত দিয়ে ভক্তদের বাড়ি থেকে অশুভ শক্তি দূর করতে নেমে আসেন মা কালী। মাকে স্বাগত জানাতেই নাকি প্রদীপ জ্বালানোর ব্যবস্থা।

৫০০ বছরের এই পুজোর কথা জেনে নিন

‘মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠ না ফুটে মন’-এই শ্যামা সঙ্গীতের সুর আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হতে শুরু করেছে। হাতে আর মাত্র দু’দিন বাকি। বৃহস্পতিবার শ্যামা মায়ের আরাধনায় মেতে উঠবে আপামর বাঙালি। অনেক পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনও শুরু হয়ে গিয়েছে। শহর কলকাতা ছাড়াও রাজারহাট, বারাসত, মধ্যমগ্রামের বিরাট বহরের কালী আরাধনা ছাড়াও জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন কাল থেকে চলে আসা মাতৃ পুজো। বহু ইতিহাসের সাক্ষী সেই সব কালীপুজো চাক্ষুষ করতে রাত জাগবেন অনেকেই। সেরকমই একটি আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার ৫০০ বছরের পুরনো কালীপুজো, ফালাকাটা শ্রীশ্রী আদি জংলা কালীমাতা মন্দিরে পুজোর প্রস্তুতি চরমে। কথিত, এক সময় ফালাকাটার মুজনাই নদীর পাড়ে ঘন জঙ্গল ছিল। সেখানে বন্য পশুরা বাস করত।  নদী দিয়ে চলত নৌকায় বাণিজ্য।  দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে কাঁসর ঘণ্টার আওয়াজ পেত জনগণ।  পরের দিন সকালে দেখাযেত সেখানে মা কালীর মূর্তি পুজো হয়েছে। পুজোর সামগ্রী  পড়ে রয়েছেl  এরপর ধীরে ধীরে সেখানে বন জঙ্গল কেটে জনবসতি গড়ে উঠতে থাকে। সেই অজানা লোক নৌকো করে এসে আর পুজো দেয় না। এরপর থেকেই এলাকাবাসী সেখানে মন্দির গড়ে পজো করা শুরু করেনl  সাধক বামাক্ষ্যাপাও না কি এই মায়ের মন্দিরে ধ্যান এবং সাধনা করে গিয়েছেন। বামাক্ষ্যাপার সেই ধ্যান এবং সাধনা করার বেদীটি এখনও রয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণে। সেটিকেও পুজো করা হয়l  তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই পুরনো নিয়ম নীতির কোনও ভাটা পড়েনি l  এখনও নিয়ম করে প্রতিদিনই পুজো হয় অমাবস্যায়। বিশেষ ভোগ হয়। কালীপুজোর দিন শতাধিক পাঁঠা বলি হয়। পাঁঠা ও কবুতর উৎসর্গ করা হয় মায়ের উদ্দেশ্যে।  ভক্তরা জানান, তাঁরা এখানে  মায়ের কাছে মানত করে ফল পেয়েছেন সেই কারণেই তাঁরা এখানে পাঁঠা কবুতর উৎসর্গ করেন এবং বলি দেন l

আজ সোনার দাম জেনে নিন

ওয়েব ডেস্ক: ‘ধন’ শব্দের অর্থ ধনসম্পত্তি এবং ‘তেরাস’ শব্দের উৎপত্তি ত্রয়োদশী তিথি থেকে। অর্থাৎ, ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত উৎসব। শুরু হয়ে গিয়েছে ধনতেরসের সেই শুভ সময়। সকাল ১০টা ৩১ মিনিট থেকে ৩০ অক্টোবর বুধবার সকাল ৬টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত থাকছে সোনা কেনার শুভ সময়। সোনার দাম কত ধনতেরাসে? ২১ অক্টোবরই সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছয় সোনার দাম। ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারাট হলুদ ধাতু বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার ৩৩০ টাকায়। তবে সেই দামে এই ক’দিনে বড়সড় হেরফের হয়নি। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার সোনার দাম কিছুটা নেমেছে। তার ফলে ধনতেরসের আগে অল্প হলেও হাসি ফুটেছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মুখে। এদিন ১০ গ্রাম ২২ ক্যারাট হলমার্ক সোনার গহনার দাম ৭৫১০০ টাকা। ২৪ ক্যারাট পাকা ১০ গ্রাম সোনার দাম ৭৯,০০০ টাকা।