মোদির চিঠি ‘বন্ধু’ ট্রাম্পকে!

আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মার্কিন মুলুকের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মসনদে বসতে চলেছেন দ্বিতীয়বার। আমেরিকার ইতিহাসে একবার হেরে গিয়ে ফের প্রেসিডেন্ট পদে বসার ঘটনা খুবই, এর আগে একবারই হয়েছিল। ভারতীয় সময় রাত ১২টায় শপথগ্রহণ করবেন ট্রাম্প, তার আগে তাঁর প্রতি বার্তা পাঠালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সুসম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে মোদিকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছিলেন রিপাবলিকান নেতা। তবে এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদি থাকছেন না। তবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। সূত্রের খবর, তাঁর হাত দিয়ে ট্রাম্পের জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যদিও সেই চিঠিতে কী লেখা তা জানা যায়নি। বিপুল সমর্থন নিয়ে নভেম্বরে জয় পেয়েছেন রিপাবলিকান ট্রাম্প। আজ, ভারতীয় সময় রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠান শুরু। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও শপথ নেবেন। ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani), নীতা আম্বানি (Nita Ambani)ইতিমধ্যে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমেরিকা গিয়েছেন। ৪০ বছর আগে আমেরিকার প্রবীণ প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন ইন্ডোরে ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটালে শপথ নিয়েছিলেন। প্রবল ঠান্ডার জন্য ট্রাম্পও এদিন ইন্ডোর অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে ইতিমধ্যে কোল্ড এয়ার এমার্জেন্সি জারি হয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউ জার্সিতে। বড় ঝড় হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ব্যক্তিগত পরিসরে নাক গলাচ্ছে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা?

আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) আপনার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ (WhatsApp Messages) পড়ে ফেলতে পারে, এ কথা জানালেন স্বয়ং মেটার (Meta) কর্ণধার মার্ক জুকারবার্গ (Mark Zuckerberg)। তবে তিনি জানিয়েছেন, আপনার ফোন সিআইএ-র হাতে পড়লে তবেই এমনটা হওয়া সম্ভব। ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ নামক এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন জুকারবার্গ। সেখানে সাংবাদিক টাকার কার্লসন অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগে নাক গলাচ্ছে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা। এরপরেই এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন জুকারবার্গ। ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপের ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ ব্যবস্থার জেরে মেটা কোনও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর ‘চ্যাট’ দেখতে পারে না। তবে কারও ডিভাইসে সেই ‘চ্যাট’ কতটা সুরক্ষিত কিংবা অরক্ষিত তা মেটার হাতে নিয়ন্ত্রণে নেই। তিনি স্বীকার করেন, কোনও ডিভাইস অরক্ষিত থাকলে তার ফায়দা তোলা হতে পারে। এই প্রসঙ্গে স্পাইওয়্যার নিয়ে সাবধান করেছেন জুকারবার্গ। তিনি বলেছেন, পেগাসাসের (Pegasus Spyware) মতো স্পাইওয়্যার টুল ব্যবহার করে গোয়েন্দা বা গুপ্তচর সংস্থা যে কোনও ফোনের বার্তালাপ, ছবি, কল লগ অ্যাকসেস করতে পারে। মেটার সিইওর কথায় পরিষ্কার, ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমের বাড়বাড়ন্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আশু প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানো যায় কীভাবে? হোয়াটসঅ্যাপের ‘ডিজ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ (Disappearing Messages) ব্যবস্থা ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করেছেন জুকারবার্গ। এই অপশন অন থাকলে, হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ নির্দিষ্ট সময়ের পরে আপনা থেকেই ডিলিট হয়ে যায়। তিনি বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপ এনক্রিপ্টেড রাখা এবং ডিজ্যাপিয়ারিং মেসেজ করে রাখা গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভালো উপায়।”

সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে রাজ্য

সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এক্স হ্যান্ডলে একথা লিখেছেন। সোমবার আরজি কর হাসপাতালে তরুণী ডাক্তারকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে শিয়ালদহ নিম্ন আদালত। সঞ্জয়ের যাতে ফাঁসি হয় তার জন্য আবেদন জানাবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানালেন, কেন এটি বেনজির ঘটনা নয়, তা শুনে তিনি স্তম্ভিত। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ”আমি মনে করি এটা ‘রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার কেস’। যার শাস্তি ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’। কীভাবে এই মন্তব্যে আসা যায় যে এটা রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার কেস নয়?  গত তিন-চার মাসে আমরা এধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া নিশ্চিত করতে পেরেছি। তাহলে এই ঘটনায় কেন ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেওয়া হল না? আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি এই ঘটনায় ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করব।”নিম্ন আদালতে শাস্তি ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদহে জানিয়েছিলেন, এখনও দোষীর ফাঁসির শাস্তির দাবিতে তিনি অনড়। পরে এক্স হ্যান্ডলে এই ঘটনাকে জঘন্য অপরাধ বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে আরজি কর কাণ্ডে ফাঁসি চেয়ে পথে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল সমাজ। হাসপাতালের ভিতরে কর্তব্যরত তরুণী ডাক্তারকে ধর্ষণ ও খুন করে কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় (বহিষ্কৃত)।

সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কলকাতা: আরজি কর কাণ্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সঞ্জয় রায়ের। এদিন শিয়ালদহ আদালতে বিচারক অনির্বাণ দাস এই সাজা ঘোষণা করেন। এদিন সাজা ঘোষণার আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয় সঞ্জয় রায়কে। তারপরই সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। এদিন সিবিআই জানিয়েছে বিরলের মধ্যে বিরলতম অপরাধ এটি। চিকিৎসক ডিউটিতে ছিলেন। শুধু পরিবার এক জন সদস্যকে নয়, এক জন চিকিৎসককে সমাজ হারিয়েছে। কঠিন শাস্তির পক্ষে সওয়াল করা হয়। সঞ্জয়ের আইনজীবীরা দাবি করেন, এটা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা নয়। মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে সওয়াল করেন তাঁরা। এই সময়ে সঞ্জয় নির্লিপ্ত ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল কাঠগড়ায়। এরপর বিচারক সবাইকে এজলাস ফাঁকা করে দেওয়ার কথা জানান। ২টো ৪৫ মিনিটে আবার কোর্ট বসে। তারপরই সাজা ঘোষণা করেন বিচারক অনির্বাণ দাস। সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় সঞ্জয় রায়কে। গ্রিন করিডর করে সঞ্জয়কে আদালতে আনা হয়েছিল। এদিন সকাল থেকে নিরাপত্তার কড়া চাদরে মোড়া ছিল শিয়ালদহ আদালত (Sealdah Court) চত্বর। আদালতের সামনে রয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা। ডিসি গৌরব লাল থেকে ইন্সপেক্টর এবং এসআই পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক এবং কর্মীরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত শনিবার ১৬২ দিনের মাথায় আরজি কর মামলায় সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করেছিল শিয়ালদহ আদালত। সে দিন সঞ্জয় আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তারপরই সঞ্জয়ের উদ্দেশে বিচারক অনির্বাণ দাস বলেছিলেন,আমি সমস্ত তথ্য প্রমাণ পরীক্ষা করে দেখেছি আপনিই দোষী। শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে।

আজ সাজা ঘোষণা সঞ্জয় রায়ের

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আরজি কর (RG Kar Case) ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় দোষী সঞ্জয় রায়ের শাস্তি ঘোষণা করবে শিয়ালদহ আদালত। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় সঞ্জয় ঘোষকে। গ্রিন করিডর করে সঞ্জয়কে আদালতে আনা হয়েছে। এদিন শুরুতে সঞ্জয় ও তাঁর আইনজীবী কবিতা সরকারের কথা শুনবেন বিচারক অনির্বাণ দাস (Judge Anirban Das)। এদিন সকাল থেকে নিরাপত্তার কড়া চাদরে মোড়া শিয়ালদহ আদালত (Sealdah Court) চত্বর। আদালতের সামনে রয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা। ডিসি গৌরব লাল থেকে ইন্সপেক্টর এবং এসআই পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক এবং কর্মীরা রয়েছেন। খতিয়ে দেখা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গত শনিবার ১৬২ দিনের মাথায় আরজি কর মামলায় সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করেছিল শিয়ালদহ আদালত। সে দিন সঞ্জয় আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তারপরই সঞ্জয়ের উদ্দেশে বিচারক দাস বলেছিলেন,আমি সমস্ত তথ্য প্রমাণ পরীক্ষা করে দেখেছি আপনিই দোষী। শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে।’’ বিচারকের পর্যবেক্ষণ, গত বছরের ৯ অগস্ট ভোরে সঞ্জয় আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে ঢুকেছিলেন। এক মহিলা চিকিৎসককে তিনি আক্রমণ করেন, তাঁর মুখ এবং গলা টিপে ধরেন। পরে ওই চিকিৎসক মারা যান। আরজি করের (RG Kar Case) ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে ৫ মাস ৯ দিন পর গত শনিবার রায় ঘোষণা করেছিলেন বিচারক অনিবার্ণ দাস। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৬৬, ১০৩(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় সঞ্জয় রায়কে। এই ধারা অনুযায়ী যাব্বজীবন কারাবাস অথবা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে সঞ্জয়ের। আজ সোমবার এই মামলার সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক। সমস্ত তথ্য প্রমাণ ও সাক্ষীর ভিত্তিতে সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে শিয়ালদহ আদালত। রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা। কাঁদতে কাঁদতেই বিচারককে ধন্যবাদ জানান নির্যাতিতার বাবা। তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, আপনার উপর যে আস্থা ছিল, তার পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন। আমাদের বিশ্বাসকে সম্মান করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ বিচারক দাস প্রত্যুত্তরে বলেন, সোমবার আসুন।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা করল ভারত

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা করল ভারতীয় বোর্ড (BCCI)। ১৫ জনের দলে অধিনায়কত্ব করবেন রোহিত শর্মা। এদিন অর্থাৎ শনিবার রোহিত এবং নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের দল ঘোষণা করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু এই প্রতিযোগিতা। ভারত গ্রুপ পর্বে খেলবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ভারতের সব ম্যাচ হবে দুবাইয়ে। বাকি দলগুলির ম্যাচ হবে পাকিস্তানে। ভারত যদি সেমিফাইনালে ওঠে, তা হলে সেই ম্যাচও হবে দুবাইয়ে। ভারত ফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচ হবে ওখানে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতীয় স্কোয়াডে কোন কোন ক্রিকেটার- রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমন গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আয়ার, লোকেশ রাহুল, ঋষভ পন্থ (উইকেটরক্ষক), হার্দিক পাণ্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর পটেল, কুলদীপ যাদব, জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ শামি, আরশদীপ সিংহ এবং ওয়াশিংটন সুন্দর এবং যশস্বী জয়সওয়াল।

মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফর

কলকাতা: বছরের শুরুতেই জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২০ জানুয়ারি সোমবার থেকে জেলা সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সফরকালে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগদানের পাশাপাশি তিনি যেতে পারেন মালদহে খুন হওয়া তৃণমূল কাউন্সিলর দুলাল সরকারের (বাবলা) বাড়িতে। সূত্রের খবর, আগামী ২০ জানুয়ারি জেলা সফরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সফরের প্রথম দিনেই দুপুর ১টা নাগাদ হাজারদুয়ারির পাশে নবাব বাহাদুর ইনস্টিটিউশনের মাঠে মুর্শিদাবাদ জেলার পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপরেই মুর্শিদাবাদ থেকে মালদহ যাবেন। মঙ্গলবার ওখান থেকেই পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান সেরে তিনি যাবেন নিহত তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার ওরফে বাবলা সরকারের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। বুধবার আলিপুরদুয়ার জেলার পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সেই সঙ্গে মাদারিহাটে পরিষেবা প্রদান এবং বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে তাঁর যোগদান করার কথা রয়েছে। এক কথায় বলা যায়, আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর রয়েছে একগুচ্ছ কর্মসূচি। উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি নিজের খাসতালুক মহানন্দাপল্লিতে দুষ্কৃতীদের ছোড়া একাধিক গুলিতে নিহত হন দুলাল সরকার। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনও খুনের কারণ অজানা রয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই বাবলা-খুনের তদন্তে ‘সিট’ গঠন করেছে পুলিশ। এই আবহে নিহত তৃণমূল নেতার বাড়ি যেতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জাতীয় মহিলা কমিশন মেদিনীপুর মেডিক্যালে

প্রসূতি মৃত্যু ও সদ্যজাতের মৃত্যু সেই সঙ্গে স্যালাইন কাণ্ড নিয়ে খতিয়ে দেখতে মেদিনীপুর মেডিক্যালের (Medinipur Medical) গেল জাতীয় মহিলা কমিশন (National Commission for Women)। শনিবার জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারের নেতৃত্বে মেদিনীপুর মেডিক্যালে সাড়ে এগারোটা নাগাদ আসেন। তারা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল মৌসুমী নন্দী,সুপার ইন্দ্রনীল সেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারীদের সঙ্গে এক জরুরী বৈঠকে বসেন। পুরো ঘটনা আর পুঙ্খানুপুঙ্খ তিনি খতিয়ে রাখেন। জাতীয় মহিলা কমিশন থেকে মহিলা কমিশনের সদস্যা ডাঃ অর্চনা মজুমদার নেতৃত্বে এক সদস্যের প্রতিনিধি এসে পৌঁছলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এসে উনি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী নন্দী ও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সারেঙ্গী সহ হাসপাতালের বৈঠকে বসেন।এদিন এই বৈঠকে গত ৯ জানুয়ারির সেই প্রসূতি অপারেশনের যারা যারা যুক্ত ছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সূত্রের খবর বৈঠকের পরেই তার মাতৃমা পরিদর্শন করেন। মৃত প্রসূতির পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি এসএসকেএম গিয়ে বাকি অসুস্থ তিন প্রসূতিকে দেখে আসবেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ণ কর্মবিরতির পথে যাচ্ছেন না মেদিনীপুর মেডিক্যালের জুনিয়র চিকিৎসকরা। দীর্ঘ বৈঠকের পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তাঁরা। আজ থেকে চলবে আংশিক কর্মবিরতি। রোগী পরিষেবা যাতে বিঘ্নিত না হয় সেদিকে নজর রেখেই আপাতত আংশিক কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত জুনিয়র ডাক্তারদের। স্যালাইন কাণ্ডে প্রসূতি মৃত্যুতে তোলপাড় রাজ্য, চিকিৎসকদের গাফিলতির তত্ত্ব খাড়া করেছেন স্বাস্থ্য়মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। স্যালাইনকাণ্ডে ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরজি কর কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়

কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলেন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। শনিবার শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অনির্বাণ দাস ওই রায় ঘোষণা করেন (RG Kar Case Verdict)। আরজি কর-কাণ্ডে একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে সঞ্জয়ের নাম করেছিল সিবিআই। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ (ধর্ষণ), ৬৬ (ধর্ষণের পর মৃত্যু) এবং ১০৩ (১) (খুন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে সঞ্জয়কে। আগামী সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রায় ঘোষণা করবে আদালত, জানালেন বিচারক অনির্বাণ দাস। রায় শুনে চোখে জল নির্যাতিতার বাবার।  তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনার উপর যে আস্থা ছিল, তার পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন।’’  বিচারক দাস প্রত্যুত্তরে বলেন, ‘‘সোমবার আসুন।’’ বিচারক দাস সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় ঘোষের উদ্দেশে বলেন, ‘‘সিবিআই এবং সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে যা মনে হয়েছে তাতে দোষী সাব্যস্ত করব আপনাকে। আপনার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড।’’ সেটা শুনে সঞ্জয় বলেন, ‘‘আমি কিছু করিনি। আমার গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। আমার কথাটা এক বার শুনুন।’’ বিচারক রায় ঘোষণা করে বলে দেন, ‘‘সোমবার আপনার কথা শুনব।’’

আর কিছুক্ষণ পরেই আরজি কর কাণ্ডের রায়দান

সেই ২০২৪-এর ৯ অগাস্ট আর আজ ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি। মাঝখানে কেটে গিয়েছে পাঁচ মাস নয় দিন। শিয়ালদহ আদালতে (Sealdah Court) আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College and Hospital) সেই নারকীয় কাণ্ডের আজ রায় ঘোষণা। এই শহর কিংবা এই রাজ্য শুধু নয়, গোটা দেশের নজর সেদিকেই। রায় ঘোষণা করবেন বিচারক অনির্বাণ দাস (Judge Anirban Das)। এই পাঁচ মাসে কতকিছু ঘটে গিয়েছে। শুরুতে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police) তদন্তে নামে এবং দ্রুত ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের একমাত্র অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে (Sanjay Ray) গ্রেফতার করে। এরপর তদন্তভার চলে যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) হাতে। তাদের জালে জড়ান আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। তবে ধর্ষণ-খুনের মামলায় তাঁরা জড়াননি, জড়িয়েছিলেন তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে। তবে আপাতত দুজনেই জামিনে মুক্ত। এদিকে এই ঘটনার জেরে অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখেছিল মহানগরী। স্বতস্ফূর্ত প্রতিবাদের ঢল নামে রাজপথে, শহরতলির অলিগলিতে। আন্দোলনে নামেন সরকারি হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাঁদের কর্মবিরতি ঘোষণা, ধর্মতলায় আমরণ অনশনে বসা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিক আলোচনার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার, এই সবই ঘটে গিয়েছে এই পাঁচ মাসে। অন্যদিকে চলেছে সিবিআইয়ের তদন্ত। আরজি কর মামলায় মোট ৫০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে নিম্ন আদালত। সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহত চিকিৎসকের পিতা, সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক, কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিক, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং নিহতের কয়েকজন সহপাঠী। আজ সেই সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ, পারিপার্শ্বিক প্রমাণে নজর রেখেই রায় দেবেন বিচারক। ১৮ জানুয়ারি এক বিশেষ দিন হতে চলেছে।